Haiwaan review
অক্ষয় কুমার ও সইফ আলি খানকে মুখোমুখি রেখে ‘হাইওয়ান’-এ একেবারে অন্য মেজাজে হাজির পরিচালক প্রিয়দর্শন। কমেডি-নির্ভর ছবির জন্য পরিচিত পরিচালক এবার বেছে নিয়েছেন অন্ধকার, প্রতিশোধ, খুন এবং টানটান ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার গল্প। ছবিটি ২০১৬ সালের মালয়ালম ছবি ‘অপ্পম’-এর হিন্দি রিমেক। তবে কেরলের গল্পকে মুম্বইয়ের প্রেক্ষাপটে এনে এবং দুই তারকার ব্যক্তিত্বকে সামনে রেখে ছবিটিকে আলাদা চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন পরিচালক।
‘হাইওয়ান’-এর মূল গল্প অনেকটাই ‘অপ্পম’-এর অনুসারী। তবে প্রিয়দর্শন এবার গল্পের পরিবেশ, চরিত্র এবং বলিউডের উপস্থাপনা বদলে দিয়েছেন। ফলে মূল ছবির তুলনায় এখানে থ্রিলারের আবহ অনেক বেশি চড়া এবং দৃশ্যায়নও বেশি গ্লসি।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে প্রতিশোধপরায়ণ প্রাক্তন কয়েদি পরশুরাম গোখলে। একটি অপরাধের জন্য সাত বছরের জেল খাটার পর সে বেরিয়ে এসে প্রতিশোধের পথে নামে। তার সামনে এসে দাঁড়ায় জন্মান্ধ শ্যাম রানে—যে নিজের অসাধারণ শ্রবণ, ঘ্রাণ এবং অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের ক্ষমতা ব্যবহার করে এক বিপন্ন স্কুলছাত্রীর রক্ষাকর্তা হয়ে ওঠে।
অক্ষয় কুমারকে এখানে তাঁর পরিচিত কমেডি-হিরোর জায়গা থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরশুরাম চরিত্রে তিনি একজন হিংস্র, প্রতিশোধপরায়ণ এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষ। ছবির শুরু থেকেই তাঁর চরিত্রের উন্মত্ততা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে সইফ আলি খানকে দেখা গিয়েছে দৃষ্টিহীন শ্যাম রানের ভূমিকায়। চরিত্রটি শুধু অসহায় বা আত্মরক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়—প্রয়োজনে সে ভয়ঙ্কর রকমের আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। মূল ছবির মোহনলালের অভিনয়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন হলেও সইফ নিজের মতো করে চরিত্রটিকে তুলে ধরেছেন এবং অন্ধ চরিত্রটির জন্য আলাদা ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পেরেছেন।
প্রিয়দর্শনের ছবির সঙ্গে দর্শকের পরিচিতি সাধারণত হাস্যরস এবং পরিস্থিতিনির্ভর কমেডির মাধ্যমে। কিন্তু ‘হাইওয়ান’-এ সেই পরিচিত ছন্দের বদলে পরিচালক তৈরি করেছেন গাঢ়, অস্বস্তিকর এবং কখনও ভয় ধরানো আবহ।
তবুও পুরোপুরি হাস্যরস বাদ যায়নি। অন্ধকার গল্পের মাঝেও কিছু কমিক মুহূর্ত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে স্মৃতিশক্তি হারাতে বসা এক বৃদ্ধ নিরাপত্তারক্ষীর চরিত্র ছবিতে কিছুটা হালকা মুহূর্ত এনে দেয়।
যাঁরা ‘অপ্পম’ দেখেছেন, তাঁদের কাছে ‘হাইওয়ান’-এর অনেক মোড়ই নতুন মনে নাও হতে পারে। ছবির মূল রহস্যও খুব বেশি সময় দর্শকের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয় না।
তবুও সইফ ও অক্ষয়ের মুখোমুখি সংঘর্ষ, বিপদের ক্রমবর্ধমান মাত্রা এবং স্কুলছাত্রীর নিরাপত্তাকে ঘিরে তৈরি উত্তেজনা ছবিটিকে দেখার মতো করে রাখে। পরিচালক মূল গল্পটিকে পুরোপুরি নতুন করে লেখেননি; বরং বলিউডের দর্শকের জন্য সেটিকে আরও বড়, চকচকে এবং আবেগঘন করে তুলেছেন।
বোমন ইরানি অভিনীত বিচারকের চরিত্রটি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরশুরামের অতীত এবং প্রতিশোধের সূত্রের সঙ্গে এই চরিত্রের সরাসরি যোগ রয়েছে।
সাইয়ামি খেরকে দেখা যায় এক মহিলা পুলিশ অফিসারের ভূমিকায়, যিনি শ্যামের সঙ্গে তদন্তে যুক্ত হন। শ্রিয়া পিলগাঁওকরও বিচারকের বাড়ির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন। ছবিতে মোহনলালের একটি বিশেষ উপস্থিতিও রয়েছে।
‘হাইওয়ান’ প্রিয়দর্শনের জন্য একটি জঁর-বদলের ছবি এবং অক্ষয় কুমারের জন্যও পরিচিত কমেডি ইমেজের বাইরে যাওয়ার সুযোগ। ছবির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, সইফের অভিনয় এবং দুই তারকার সংঘর্ষ এর বড় শক্তি।
তবে ‘অপ্পম’-এর সঙ্গে তুলনা এড়ানো কঠিন। মূল ছবির ছায়া বারবার ফিরে আসে এবং গল্পে খুব বেশি নতুনত্ব নেই। শেষ পর্যন্ত ‘হাইওয়ান’ একটি উপভোগ্য, অন্ধকার থ্রিলার হয়ে উঠলেও তা মূল ছবিকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি।