₹370 Biryani Remark Controversy
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: গুরুগ্রামের একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো-কে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার আইনি মোড় নিল। নারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য এবং সেই মন্তব্যকে মঞ্চে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরে এবং প্রযুক্তিকর্মী হিমাংশু জাংড়ার বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়েছে। ঘটনাটি (₹370 Biryani Remark Controversy) সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিতর্কের সূত্রপাত একটি ‘ক্রাউড ওয়ার্ক’ সেগমেন্ট থেকে। সেখানে দর্শকাসনে থাকা হিমাংশু জাংড়া একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে দাবি করেন, একটি ডেটে তিনি ৩৭০ টাকা খরচ করে বিরিয়ানি খাইয়েছিলেন। এরপর তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নারী-বিদ্বেষী এবং অসম্মানজনক বলে সমালোচিত হয়।
সমালোচকদের অভিযোগ, ওই মন্তব্যের সময় প্রণীত মোরে তা থামানোর পরিবর্তে হাস্যরসের অংশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যান। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বহু মানুষ প্রশ্ন তোলেন, জনসমক্ষে এই ধরনের মন্তব্যকে বিনোদন হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা দায়িত্বশীল।
ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করে জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। কমিশন প্রণীত মোরে এবং হিমাংশু জাংড়াকে তলব করেছে। পাশাপাশি হরিয়ানা পুলিশের কাছেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। কমিশনের মতে, ভিডিওতে এমন বক্তব্য রয়েছে যা নারীদের প্রতি জোরজবরদস্তি এবং অসম্মানজনক আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরতে পারে।
বিতর্ক বাড়ার পর মহারাষ্ট্র সাইবার সেলও মামলার তদন্ত শুরু করে। পরে প্রণীত মোরে, হিমাংশু জাংড়া এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে FIR দায়ের করা হয়।
এদিকে ঘটনার জেরে হিমাংশু জাংড়ার কর্মজীবনেও প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিতর্কের পর তিনি চাকরি হারিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তরফে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি।
প্রবল সমালোচনার মুখে পরে ক্ষমা চান প্রণীত মোরে। তিনি স্বীকার করেন যে দর্শকদের হাসি এবং পরিবেশের চাপে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন। তাঁর কথায়, ওই মন্তব্যকে (₹370 Biryani Remark Controversy) সঙ্গে সঙ্গে থামানো উচিত ছিল এবং সেটি না করাটা তাঁর বড় ভুল।
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে স্ট্যান্ড-আপ কমেডির সীমারেখা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাস্যরসের নামে কোনও সম্প্রদায় বা লিঙ্গকে অপমান করা হলে তা শুধু নৈতিক নয়, আইনি প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।