Telegram Ban India Pavel Durov
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: NEET-UG 2026 পুনঃপরীক্ষার আগে ভারতে টেলিগ্রামের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার সরাসরি সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পাভেল দুরভ। তাঁর দাবি, টেলিগ্রাম বন্ধ করলেও প্রশ্নফাঁস বা বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি। বরং সেই কর্মকাণ্ড অন্য অ্যাপে (Telegram Ban India Pavel Durov) স্থানান্তরিত হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম X-এ এক পোস্টে দুরভ বলেন, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক কিছু ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো প্ল্যাটফর্মের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে ১৫ কোটিরও বেশি সাধারণ ভারতীয় ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়েছেন। অথচ প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পায়নি।
India’s IT ministry banned Telegram for one week because some users shared leaked exam questions.
This punishes 150M+ ordinary Telegram users in India — not the insiders who leaked the exam materials.
And the ban hasn’t stopped anything. The leaks just moved to other apps. https://t.co/CzQWN4mXfb
— Pavel Durov (@durov) June 16, 2026
দুরভের বক্তব্য, “নিষেধাজ্ঞা কিছুই থামাতে পারেনি। লিক শুধু অন্য অ্যাপে চলে গিয়েছে।” তাঁর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ মূল সমস্যার সমাধান নয়। বরং সাধারণ ব্যবহারকারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
প্রসঙ্গত, NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসার পর জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র সুপারিশে কেন্দ্র সরকার টেলিগ্রামের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (Telegram Ban India Pavel Durov) জারি করে। অভিযোগ ছিল, কিছু চ্যানেল এবং গ্রুপের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রি এবং ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। সেই কারণেই ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের যুক্তি, পুনঃপরীক্ষার আগে সংগঠিত প্রতারণা চক্রকে রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ছিল প্রধান লক্ষ্য।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং ডিজিটাল অধিকার কর্মীদের একাংশও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, একটি প্ল্যাটফর্মকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার বদলে নির্দিষ্ট অপরাধী গোষ্ঠী বা চ্যানেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারত।
NEET-UG প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরীক্ষার ফল বাতিল হওয়া, পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা এবং এখন টেলিগ্রাম নিষেধাজ্ঞা— সব মিলিয়ে বিষয়টি জাতীয় স্তরে বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
এদিকে পাভেল দুরভের মন্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপরাধ দমনে নিষেধাজ্ঞা কি সত্যিই কার্যকর? নাকি প্রযুক্তির যুগে অপরাধীরা সহজেই অন্য প্ল্যাটফর্মে সরে (Telegram Ban India Pavel Durov) গিয়ে একই কাজ চালিয়ে যেতে পারে? সেই বিতর্কই এখন আরও জোরালো হয়েছে।