• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
CBSE OSM Controversy

CBSE-র OSM বিতর্কে দায় স্বীকার ধর্মেন্দ্র প্রধানের, ‘সমস্যা ঠিক করা হবে’ আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

CBSE-র নতুন On-Screen Marking (OSM) পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যে দায় স্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, মূল্যায়নের অসঙ্গতি দ্রুত ঠিক করা হবে এবং গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

CBSE-র OSM বিতর্কে দায় স্বীকার ধর্মেন্দ্র প্রধানের, ‘সমস্যা ঠিক করা হবে’ আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

CBSE OSM Controversy

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 28, 2026 7:25 am
  • Update:May 28, 2026 7:25 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: CBSE-র নতুন On-Screen Marking (OSM) মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে বাড়তে থাকা বিতর্কের মধ্যে অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বৃহস্পতিবার তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেন যে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কিছু অসঙ্গতি ও সমস্যার (CBSE OSM Controversy) অভিযোগ উঠেছে এবং সেই দায় তিনি নিচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে এবং যদি কোনও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না।

সম্প্রতি CBSE দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার মূল্যায়নে প্রথমবার চালু করা হয়েছিল ডিজিটাল On-Screen Marking বা OSM ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় পরীক্ষকদের স্ক্যান করা উত্তরপত্র অনলাইনে মূল্যায়ন করতে হয়। বোর্ডের দাবি ছিল, এর ফলে মূল্যায়ন আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর থেকেই বহু ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক অভিযোগ করতে শুরু করেন যে নম্বরের হিসাব মিলছে না, কিছু উত্তর মূল্যায়নই করা হয়নি, এমনকি স্ক্যানিং ও আপলোডেও একাধিক ত্রুটি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “আমি দায়িত্ব নিচ্ছি। সমস্যা ঠিক করা হবে, সমাধান বের করা হবে। আমরা সকলে সেই কাজেই ব্যস্ত।” তাঁর এই মন্তব্যের পর স্পষ্ট হয়েছে যে কেন্দ্র সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, IIT কানপুর ও IIT মাদ্রাজের প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও গাফিলতি বা অনিয়ম করা হয়ে থাকে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের উদ্বেগ না বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি CBSE-র মূল্যায়ন ব্যবস্থার সমালোচনা করে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার জবাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান কড়া ভাষায় বলেন, “নির্বাচনে বারবার হারের কারণে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিরোধিতা করাই বিরোধীদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেও সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা। বহু ছাত্রছাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছেন, তাঁরা যে নম্বর পাওয়ার আশা করেছিলেন, বাস্তবে তার থেকে অনেক কম নম্বর এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, পুরো উত্তর লেখা থাকা সত্ত্বেও নম্বর কাটা হয়েছে। আবার অনেকের বক্তব্য, রি-চেকিংয়ের জন্য আবেদন করতেও প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে CBSE-র উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এখনও OSM ব্যবস্থাকে “স্টুডেন্ট সেন্ট্রিক” বলেই দাবি করছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের মতে, এই ডিজিটাল পদ্ধতির (CBSE OSM Controversy) ফলে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের স্ক্যান করা উত্তরপত্র দেখতে পাচ্ছেন, যা আগে সম্ভব ছিল না। এর ফলে মূল্যায়নে কোথাও ভুল বা উত্তর বাদ পড়েছে কিনা, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থাই ভবিষ্যতের শিক্ষা মূল্যায়নের নতুন দিশা হতে পারে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, এত বড় পরিসরে ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করার আগে আরও পরীক্ষামূলকভাবে তা প্রয়োগ করা উচিত ছিল। কারণ দেশের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে এই মূল্যায়নের সঙ্গে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের উপর।

বর্তমানে CBSE ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এই বিতর্ক শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের বড় চ্যালেঞ্জকেও সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার, সরকার কত দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং ছাত্রছাত্রীদের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয় কিনা।

আরও খবর