Infantino UEFA payments
ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এ বার অভিযোগ উঠেছে তাঁর কথিত প্রেমের সম্পর্ক এবং আর্থিক সুবিধা দেওয়া নিয়ে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফার সঙ্গে এই ঘটনার যোগ রয়েছে।
লন্ডনের সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক নারীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
সেই সম্পর্কের অবসানের পর ওই নারী উয়েফার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পান।
অভিযোগের এখানেই শেষ নয়।
ওই নারীর পদোন্নতির ক্ষেত্রেও ইনফান্তিনোর ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এমনকি উয়েফা ছাড়ার পর তাঁর এমবিএ পড়ার খরচও সংস্থাটি বহন করেছিল বলে অভিযোগ।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উয়েফা ছাড়ার সময় ওই নারীকে ছয় অঙ্কের ইউরো অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
অর্থাৎ, পরিমাণটি অন্তত কয়েক লক্ষ ইউরো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর এই অর্থ প্রদান করা হয়।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কেন একজন কর্মীকে এত বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ করে সংস্থার শীর্ষ পদে থাকা এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথিত ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর পাশাপাশি ওই নারীর পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ, ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালীন তাঁর কর্মজীবনে অগ্রগতি হয়েছিল।
পরবর্তীতে উয়েফা ছাড়ার পর একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ করার সুযোগ পান তিনি।
সেই পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচও উয়েফা বহন করেছিল বলে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উয়েফা আর্থিক অর্থপ্রদানের বিষয়টি স্বীকার করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্কের অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত ছিল।
উয়েফার বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে সংস্থার নিয়মকানুন আরও কঠোর করা হয়েছে।
একটি আধুনিক এবং উচ্চপ্রোফাইল প্রতিষ্ঠানের মতো করেই নিজেদের নীতি শক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে উয়েফা।
তবে এই ব্যাখ্যা নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে।
যদি সম্পর্কের অভিযোগ সম্পর্কে সংস্থা আগে থেকেই জানত, তা হলে অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল?
পদোন্নতি এবং শিক্ষার খরচ বহনের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন উঠছে।
সেই সিদ্ধান্তগুলিতে ইনফান্তিনোর কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
টেলিগ্রাফের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উয়েফার কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তার উদ্বেগের কথাও সামনে এসেছে।
ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড নিয়ে সেই সময় সংস্থার অন্দরমহলে প্রশ্ন ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইনফান্তিনো বর্তমানে ফিফার সভাপতি।
ফলে উয়েফার অতীতের এই ঘটনা সামনে আসায় তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে কোনও কর্মীর পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ জড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগগুলির সবকটি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে সামনে আসেনি।
উয়েফা অবশ্য অর্থপ্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেনি।
বরং সংস্থার দাবি, পরবর্তী সময়ে তারা নিজেদের নিয়ম আরও কঠোর করেছে।
এখন মূল নজর থাকবে এই ঘটনার আরও কোনও নথি বা তথ্য সামনে আসে কি না।
পাশাপাশি ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও বিতর্ক কতটা বাড়ে, সেটিও দেখার।