Abhishek Banerjee CID Case
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-র কলকাতার বাসভবনে ফের পৌঁছল সিআইডি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তদন্তে হাজিরা দেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় চাওয়ার পরই এই নতুন পদক্ষেপ (Abhishek Banerjee CID Case) ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগে চলা তদন্তের অংশ হিসেবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলায় আহত হওয়া এবং চিকিৎসাধীন থাকার কারণ দেখিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।
গত শনিবার সিআইডির একটি দল দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে নোটিস দেয়। তদন্তকারীরা প্রথমে তাঁর হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে গেলেও পরে কালীঘাট রোডের অন্য ঠিকানায় গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নোটিস তুলে দেন।
এই মামলার সূত্রপাত তৃণমূলের বিধায়ক দলের তরফে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে জমা দেওয়া একটি চিঠিকে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, ওই নথিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি নিজেই বৈঠকে উপস্থিত থেকে নাম লিখেছিলেন এবং সেখানে কোনও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতা করবেন, তবে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ (Abhishek Banerjee CID Case) নেবেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। সোনারপুরে দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি হামলার মুখেও পড়েন। তার মধ্যেই সই জালিয়াতি মামলায় সিআইডির তৎপরতা রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, এই তদন্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। ফলে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র আইনি তদন্তের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
এখন নজর থাকবে, সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন করে কবে হাজিরার নির্দেশ দেয় এবং তদন্তে পরবর্তী পর্যায়ে কী তথ্য সামনে আসে তার দিকে। কারণ এই মামলার অগ্রগতি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।