Chandranath Rath murder case
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা ব্যক্তিগত সহকারী Chandranath Rath খুনের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল তদন্তকারী দল। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে একাধিক অভিযানের পর তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, একটি টোল প্লাজায় করা UPI পেমেন্ট থেকেই মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র (Chandranath Rath murder case), যা শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেয় অভিযুক্তদের কাছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের SIT, CID এবং উত্তরপ্রদেশ ও বিহার পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়েছে অভিযুক্তরা। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিশাল শ্রীবাস্তব, রাজ সিং এবং ময়ঙ্ক মিশ্র। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এরা পেশাদার শার্পশুটার এবং পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে নিজের বাড়ির কাছে গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ রথ। তদন্তকারীদের দাবি, হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একটি ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি প্রথমে তাঁর গাড়ির রাস্তা আটকে দেয়। তারপর মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা হামলার ঘটনাটি মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে। হামলাকারীদের লক্ষ্যভেদ ও দ্রুত অপারেশন দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, অভিযুক্তরা প্রশিক্ষিত শুটার। এমনকি গাড়ির ভিতরে চন্দ্রনাথ রথ কোথায় বসেছিলেন, সেটাও হামলাকারীদের আগে থেকেই জানা ছিল বলে দাবি SIT-এর।
তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে টোল প্লাজার ডিজিটাল পেমেন্ট থেকে। পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি টোল পার হওয়ার সময় UPI মারফত অর্থ প্রদান করেছিল। সেই ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের একাধিক জায়গায় পৌঁছে যায়।
এরপর কলকাতা পুলিশ, পশ্চিমবঙ্গ CID এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে উত্তরপ্রদেশের আয়োধ্যা ও বিহারের বক্সার এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই অভিযানে ধরা পড়ে মূল সন্দেহভাজন রাজ সিং, যিনি উত্তরপ্রদেশের বলিয়ার বাসিন্দা হলেও বিহারের বক্সারে থাকতেন বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে অন্তত সাত থেকে আটজন জড়িত থাকতে পারে। শার্পশুটার ছাড়াও স্থানীয় স্তরে নজরদারি, গাড়ি ট্র্যাকিং এবং পালানোর পরিকল্পনায় আরও কয়েকজন যুক্ত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ এখন গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী এই হত্যাকে “পূর্বপরিকল্পিত” বলে দাবি করেছেন এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও অভিযোগ তুলেছেন। যদিও শাসকদল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চন্দ্রনাথ রথ একসময় ভারতীয় বায়ুসেনায় কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাতেন। বিজেপি মহলে তাঁকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সংগঠক হিসেবেই দেখা হত।
বর্তমানে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধুই ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল, নাকি এর পিছনে আরও বড় রাজনৈতিক বা অপরাধচক্র সক্রিয় ছিল।