India Australia Strategic Partnership
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অস্ট্রেলিয়া সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশ অসামরিক পরমাণু শক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals), প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা (India Australia Strategic Partnership) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তিগুলি শুধু দুই দেশের সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্যও আরও শক্তিশালী করবে।
এই সফরের অন্যতম বড় সাফল্য হল অসামরিক পরমাণু শক্তি সহযোগিতায় প্রশাসনিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া। এর ফলে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতের অসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির জন্য ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ আরও সহজ হবে। ভারতের লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করা, আর সেই লক্ষ্যে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরেনিয়াম মজুদের অধিকারী অস্ট্রেলিয়া ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির অন্যতম অংশীদার হয়ে উঠতে চলেছে।
বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার রূপরেখাও তৈরি হয়েছে।
এছাড়া সবুজ হাইড্রোজেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং স্বল্প-কার্বন শিল্প উন্নয়নেও দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে ভারত-অস্ট্রেলিয়া Comprehensive Economic Cooperation Agreement (CECA)-এর আলোচনা দ্রুত শেষ করার ব্যাপারেও জোর দেওয়া হয়েছে। দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া “স্বাভাবিক ও বিশ্বস্ত অংশীদার” হিসেবে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ দুই দেশের সম্পর্ককে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হল। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন চুক্তিগুলি আগামী দিনে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।