Karnataka Techie Lightning Death
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: কৃষিকাজের নতুন স্বপ্ন নিয়ে পরিবারকে সঙ্গে করে জমি দেখতে গিয়েছিলেন কর্নাটকের এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। কিন্তু আচমকাই সেই সফর পরিণত হল মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় (Karnataka Techie Lightning Death)। বজ্রপাতে মৃত্যু হল ৪৩ বছরের প্রযুক্তিকর্মী রোশন বালাকৃষ্ণর। ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের মাইসুরু জেলার ইয়েলওয়াল এলাকায়। স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জমি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন রোশন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রোশন বালাকৃষ্ণ মূলত কর্নাটকের কোডাগু জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তবে কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে বেঙ্গালুরুর জালাহল্লি এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি একটি আইটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি পরিবারের কফি বাগান দেখাশোনাও করতেন। সম্প্রতি কর্পোরেট চাকরির পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে বড় আকারে কাজ করার পরিকল্পনা শুরু করেছিলেন তিনি। সেই কারণেই মাইসুরুতে একটি জমি দেখতে গিয়েছিলেন।
খবর অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধ্যা প্রায় পাঁচটা নাগাদ। রোশন তাঁর স্ত্রী ও নবম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে নিয়ে ইয়েলওয়ালের কাছে জমি দেখতে যান। জমির পাশে একটি আমগাছ ছিল। সেখানে আম পাড়তে গিয়েই আচমকা বজ্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বজ্রপাতের সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রোশন। ঘটনায় আরও একজন আহত হন, যদিও তাঁর আঘাত গুরুতর নয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে স্থানীয় এনজি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে মাইসুরুর শ্রী জয়দেব ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রোশনের পরিবার ও পরিচিত মহলে। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, তিনি অত্যন্ত শান্ত ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সফল কেরিয়ারের পাশাপাশি কৃষিকাজ (Karnataka Techie Lightning Death) নিয়েও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। আধুনিক কৃষি সরঞ্জামের বিপণন এবং কৃষকদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। বন্ধুদের সঙ্গে যৌথভাবে কৃষি ব্যবসা সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনাও চলছিল।
ঘটনার পর মাইসুরু জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর রোশনের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মোট ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ লক্ষ টাকা স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড (SDRF) এবং ১ লক্ষ টাকা ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফান্ড (NDRF) থেকে দেওয়া হবে।
এই দুর্ঘটনার পর ফের একবার বজ্রপাত নিয়ে সতর্কতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা-পূর্ব সময়ে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অংশে বজ্রঝড় ও আকস্মিক বিদ্যুৎ চমকের ঘটনা বেড়ে যায়। খোলা মাঠ, বড় গাছের নিচে দাঁড়ানো বা উঁচু জায়গায় অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ভারতে প্রতি বছর বজ্রপাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। বিশেষ করে কৃষিজমি বা খোলা এলাকায় কাজ করা মানুষদের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত মৃত্যুর মধ্যে বজ্রপাত অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতা বাড়ানো এবং আবহাওয়া সতর্কতা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
রোশন বালাকৃষ্ণর মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং আধুনিক জীবন ছেড়ে নতুন স্বপ্নের পথে হাঁটতে গিয়ে এক পরিবারের ভেঙে পড়ার গল্পও। প্রযুক্তির জগৎ থেকে কৃষিক্ষেত্রে নতুন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রকৃতির এক মুহূর্তের তাণ্ডব সেই স্বপ্নকেই থামিয়ে দিল চিরতরে।