Saokat Molla Security Withdrawn
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হল তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, শওকত মোল্লার (Saokat Molla Security Withdrawn) জন্য বরাদ্দ সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনের আবহে পরিকল্পিতভাবে শওকত মোল্লাকে নিরাপত্তাহীন করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, আইন অনুযায়ীই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শওকত মোল্লা দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙড় এলাকার অন্যতম বিতর্কিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মুখ। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় কেন্দ্রকে ঘিরে তৃণমূল ও আইএসএফের সংঘাত তীব্র আকার নিয়েছিল। বিশেষ করে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে শওকত বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। ভোটের আগে তাঁর উপর হামলার অভিযোগও উঠেছিল। তৃণমূলের দাবি ছিল, আইএসএফ সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল আইএসএফ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আবহে হঠাৎ করে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ভাঙড় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অশান্তির জন্য পরিচিত। এলাকায় তৃণমূল, আইএসএফ ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা অতীতে সামনে এসেছে। ফলে শওকত মোল্লার নিরাপত্তা তুলে নেওয়াকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না অনেকেই।
তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের দাবি, শওকত মোল্লাকে রাজনৈতিকভাবে (Saokat Molla Security Withdrawn) চাপে রাখতেই এই পদক্ষেপ। দলের নেতাদের বক্তব্য, যাঁর উপর অতীতে হামলার অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নিরাপত্তা তুলে নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের দাবি, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও ভাঙড় পুরোপুরি শান্ত নয় এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁদের দাবি, কোনও রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তা মূল্যায়ন নির্দিষ্ট প্রশাসনিক রিপোর্টের উপর নির্ভর করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিরোধীদের একাংশ আরও দাবি করেছে, অতীতে শওকত মোল্লার নাম বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, শওকত মোল্লা অতীতেও একাধিকবার বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন। কখনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ, কখনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ—বিভিন্ন কারণে তিনি আলোচনায় থেকেছেন। ২০২৩ সালে ভাঙড় কলেজে এক অনুষ্ঠানে পুলিশকে কটূক্তি করার অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও শওকত দাবি করেছিলেন, তিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এছাড়াও চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় কেন্দ্র ছিল অন্যতম হাইভোল্টেজ আসন। নওশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নামেন শওকত মোল্লা। দুই পক্ষের রাজনৈতিক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ভোট প্রচারের সময় নওশাদকে “মুখোশধারী” ও “মিথ্যাবাদী” বলেও আক্রমণ করেছিলেন শওকত। পাল্টা নওশাদও তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে ভাঙড়ের রাজনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ শওকত মোল্লা শুধু স্থানীয় নেতা নন, ভাঙড়ে তৃণমূলের সংগঠন ও শক্তির অন্যতম মুখ হিসেবেও পরিচিত। তাঁর নিরাপত্তা ঘিরে বিতর্ক বাড়লে তা সরাসরি রাজনৈতিক মেরুকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ এখন নজর রাখছে, তৃণমূল এই ইস্যুতে আরও বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের পথে হাঁটে কিনা।
সব মিলিয়ে, শওকত মোল্লার নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ। ভোটের আবহে এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে আরও বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।