Suvendu Adhikari Mayapur Visit
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার নদিয়ার মায়াপুর ইসকন মন্দিরে গিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার মায়াপুরের (Suvendu Adhikari Mayapur Visit) চন্দ্রোদয় মন্দিরে পুজো ও আরতি শেষে তিনি বলেন, “গীতার বাণী গ্রহণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। পশ্চিমবঙ্গের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনাই আমার প্রার্থনা।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মায়াপুর সফরে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমে ইসকনের গোশালায় যান। সেখানে গোমাতার পা ধুয়ে গো-সেবা করেন এবং বিশেষ পুজোয় অংশ নেন। এরপর চন্দ্রোদয় মন্দিরে গিয়ে রাধামাধব ও ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের দর্শন করেন। মন্দিরে পুজো ও আরতির পর সাষ্টাঙ্গে প্রণামও করতে দেখা যায় তাঁকে। ভক্তদের সঙ্গেও সময় কাটান তিনি।
পুজো শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর কালীঘাট, বেলুড় মঠ, জৈন মন্দির, লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে গিয়েছি। ইসকনে আসার ইচ্ছা ছিল অনেকদিনের। এখানে এসে রাধামাধবের দর্শন, গোমাতার সেবা, কীর্তন-ভজন শোনার সুযোগ পেলাম।” তিনি আরও বলেন, “আমি একজন সনাতনী। ইসকনের সন্ন্যাসীরা অপমান ও লাঞ্ছনার পরেও গীতার বাণী প্রচার করে চলেছেন। তাঁদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই সফর শুধুমাত্র ধর্মীয় কর্মসূচি নয়, বরং তার বড় রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলার রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সনাতনী আবেগ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। সেই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর মায়াপুর সফরকে বিজেপির বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও আদর্শগত রাজনীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে “বাংলার হারানো গৌরব” ফেরানোর প্রসঙ্গ তোলায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। বিজেপির দাবি, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে নতুনভাবে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে শাসকদল। যদিও এই সমালোচনার সরাসরি জবাব দেননি শুভেন্দু।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যেতে দেখা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীকে। এর আগে তিনি কালীঘাট মন্দির, বেলুড় মঠ ও একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়েছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে তিনি একদিকে নিজের সনাতনী ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন, অন্যদিকে বৃহত্তর হিন্দু ভোটব্যাঙ্কের সঙ্গেও আবেগগত সংযোগ গড়ে তুলছেন।
মায়াপুর ইসকন আন্তর্জাতিক পর্যটন ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এখানে আসেন। ইসকনের বিশ্বব্যাপী প্রভাব এবং বাংলার নবদ্বীপ-মায়াপুরের বৈষ্ণব ঐতিহ্যকে সামনে রেখে শুভেন্দুর এই সফর রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের সঙ্গে মিশে যেতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। অনেকের সঙ্গে করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে সেই ছবি ও ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। বিজেপি সমর্থকদের একাংশ শুভেন্দুর এই সফরকে “বাংলার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক” বলে দাবি করেছে।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মাঝেও ধর্মীয় আবেগের উপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। যদিও বিজেপির পাল্টা দাবি, বাংলার সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
সব মিলিয়ে, মায়াপুরে শুভেন্দু অধিকারীর এই সফর (Suvendu Adhikari Mayapur Visit) শুধুমাত্র ধর্মীয় কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বার্তা ও বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, আগামী দিনে এই ধরনের সফর বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।