• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Abhishek Banerjee FIR

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় নতুন অভিযোগ, বাড়ল রাজনৈতিক চাপ

তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় নতুন অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় নতুন অভিযোগ, বাড়ল রাজনৈতিক চাপ

Abhishek Banerjee FIR

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 28, 2026 9:03 am
  • Update:May 28, 2026 9:03 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় নতুন করে অভিযোগ (Abhishek Banerjee FIR) দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং জাতীয় সংহতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

অভিযোগকারী অর্ণবকান্তি দাস ভবানীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত ২ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে যে পোস্ট করেছিলেন, তাতে এমন কিছু মন্তব্য ছিল যা সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, একজন সাংসদ হিসাবে অভিষেকের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল এবং এমন মন্তব্য জনমনে উত্তেজনা ছড়াতে পারে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কপিও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে FIR দায়ের হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে ভবানীপুর থানার তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তিনি উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। সেই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী রাজীব সরকারের দাবি ছিল, বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে অভিষেক এমন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন যা রাজনৈতিক হিংসা উস্কে দিতে পারে।

বিশেষ করে একটি জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেখানে তিনি বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে তাদের বাঁচাতে আসে, সেটাও দেখব।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিরোধীদের তরফে অভিযোগ ওঠে যে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন।

তবে এই সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টার্গেট করছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে আইনি ও প্রশাসনিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও এই নতুন অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

এরই মধ্যে আগের FIR-কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলায় আদালতের কাছ থেকে তিনি অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচও পান। ফলে রাজনৈতিক ও আইনি—দুই ক্ষেত্রেই এই লড়াই এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিষেককে ঘিরে ধারাবাহিক অভিযোগ ও মামলা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান মুখ হওয়ায় তাঁকে ঘিরে যে কোনও বিতর্ক দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে এই ধরনের অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

এখন নজর ভবানীপুর থানার তদন্তের দিকে। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় কিনা, সেটাই দেখার। তবে নতুন অভিযোগ সামনে আসায় রাজ্যের রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

আরও খবর