Sujit Bose ED Custody
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা Sujit Bose-কে ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল বিশেষ আদালত। সোমবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে Enforcement Directorate। মঙ্গলবার আদালতে পেশ করার পর তদন্তের স্বার্থে দীর্ঘ হেফাজতের আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সুজিত বসু। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি প্রায় ১৫০ জন প্রার্থীকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন এবং তার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছিলেন।
তদন্তে নেমে ইডি দাবি করেছে, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, যেগুলিকে “প্রসিডস অফ ক্রাইম” বা দুর্নীতির অর্থে অর্জিত সম্পত্তি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সুজিত বসুর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ জমার তথ্যও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
সোমবার সকাল থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় অসহযোগিতা এবং বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে। এরপরই রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এই মামলার সূত্রপাত মূলত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি তদন্ত চলাকালীন। তদন্তে উঠে আসে, বিভিন্ন পুরসভাতেও নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম-সহ একাধিক পুরসভায় শ্রমিক, ক্লার্ক, সাফাইকর্মী, পাম্প অপারেটর, ড্রাইভার-সহ নানা পদে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ করা হয়েছিল।
ইডির দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা, যার মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগের চক্র চালানো হত। তদন্তে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী অয়ন শীলের নামও উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও সুজিত বসুর একাধিক বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন সুজিত বসু। একসময় তিনি দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস-চেয়ারম্যানও ছিলেন। এই গ্রেফতারির ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না মিললেও, অতীতে দল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে।