Suvendu Adhikari 60 plus officials
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় রদবদলের পথে হাঁটলেন। রাজ্যের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই ৬০ বছরের বেশি বয়সি আধিকারিক ও বিভিন্ন সরকারি বোর্ড-কমিটির প্রধানদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে নতুন সরকার। তৃণমূল আমলে যাঁরা অবসরের পরেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বোর্ড ও কমিটির দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের আর রাখা হবে না (Suvendu Adhikari 60 plus officials) বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক সংস্কারের বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়।
তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় অবসরপ্রাপ্ত বহু আধিকারিককে বিভিন্ন সরকারি বোর্ড, কমিটি, সংস্থা ও পাবলিক সেক্টর ইউনিটের শীর্ষপদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে অনেকে “পোস্ট অফ বেনিফিট” বা বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে দায়িত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। নতুন সরকার সেই ব্যবস্থাতেই এবার ছুরি চালাল।
সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা ব্যক্তিদের আর এইসব পদে রাখা (Suvendu Adhikari 60 plus officials) হবে না। বিভিন্ন দপ্তরের অধীন থাকা অ-সাংবিধানিক বোর্ড, কমিটি, সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর ও মনোনীত সদস্যদের অবিলম্বে অপসারণ করতে বলা হয়েছে।
নবান্নে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, নিশীথ প্রামাণিক-সহ একাধিক মন্ত্রী ও শীর্ষ আমলা। প্রশাসনিক স্তরে কীভাবে দ্রুত পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর।
সরকারি মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিভিন্ন সরকারি পদে রেখে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ খরচ করা হচ্ছিল। তাঁদের জন্য মোটা বেতন, সরকারি গাড়ি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বরাদ্দ ছিল। নতুন সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিজেপি সরকার প্রশাসনে “নতুন মুখ” এবং “তরুণ নেতৃত্ব” আনার বার্তা দিতে চাইছে। একই সঙ্গে তৃণমূল আমলের বিভিন্ন নিয়োগ ও পুনর্বাসন নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করছে নতুন সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আগামী বৈঠকে আরও বড় প্রশাসনিক ও নীতিগত পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও জানান, নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন এবং মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত বিষয়েও আগামী দিনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সরকার গঠনের পর খুব কম সময় পাওয়ায় প্রথম বৈঠকে শুধুমাত্র প্রস্তুত থাকা ফাইলগুলিতেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক রদবদলের জল্পনা শুরু হয়েছিল। ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারত চালু, সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং BSF-কে জমি হস্তান্তরের মতো একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।
এবার ষাটোর্ধ্ব আধিকারিকদের সরানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক মহলে বড় বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে শুভেন্দু সরকার বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে, “একই ধাঁচের প্রশাসন” আর চলবে না এবং আগামী দিনে আরও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।