• ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Xi Jinping India visit 2026

৭ বছর পর ভারতে শি জিংপিং, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত-থেকে বাণিজ্য—ব্রিকসে নতুন করে ‘ড্রাগন-হাতি’ সমীকরণ

সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে সীমান্তে শান্তি, বাণিজ্য ঘাটতি, বাজারে প্রবেশাধিকার ও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে।

৭ বছর পর ভারতে শি জিংপিং, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত-থেকে বাণিজ্য—ব্রিকসে নতুন করে ‘ড্রাগন-হাতি’ সমীকরণ

Xi Jinping India visit 2026

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 11, 2026 2:54 pm
  • Update:September 11, 2026 2:54 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের ভারত সফর ঘিরে ফের গতি পেয়েছে নয়াদিল্লি-বেজিং সম্পর্ক। সাত বছর পর ভারতে আসছেন শি (Xi Jinping India visit 2026)। ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দীর্ঘ টানাপোড়েন পেরিয়ে এই সফরকে ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৭ বছর পর দিল্লিতে শি, সামনে মোদীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

২০১৯ সালে মহাবলীপুরমে মোদীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর এই প্রথম ভারতে পা রাখছেন শি। ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধাক্কা লাগে। তবে ২০২৪ সালের কাজান বৈঠকের পর থেকে ধীরে ধীরে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এবং সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে।

এবারের ব্রিকস সম্মেলন সেই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, বেজিং ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়নের ক্ষেত্রে অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়।

সীমান্তে শান্তি—ভারতের কাছে এখনও সবচেয়ে বড় শর্ত

মোদী-শি বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট—সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও স্থায়ী অগ্রগতি কঠিন।

কাজানে দুই নেতা সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় সামলাতে বিশেষ প্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে অজিত ডোভাল ও ওয়াং ই-র বৈঠকেও সীমান্তে শান্তি, ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোনোর বিষয় উঠে এসেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে চিন্তায় দিল্লি

রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কও এবারের আলোচনায় বড় জায়গা পেতে পারে। চিন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হলেও দুই দেশের বাণিজ্যে ভারতের ঘাটতি বিপুল।

২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবর্ষে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রেকর্ড ১৫১.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে হয়েছে ১১২.১৬ বিলিয়ন ডলার। তাই নয়াদিল্লির অগ্রাধিকার হতে পারে চিনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, সরবরাহ-শৃঙ্খলকে আরও নির্ভরযোগ্য করা এবং বাণিজ্যের ভারসাম্য ফেরানো।

সরাসরি বিমান, ভিসা ও সীমান্ত বাণিজ্যে বরফ গলছে

দুই দেশের সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। গত বছর ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু হয়েছে। চিনা ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াতেও কিছুটা শিথিলতা এনেছে নয়াদিল্লি।

এ বছর ছয় বছর বন্ধ থাকার পর সীমান্ত বাণিজ্যও ফের শুরু হয়েছে। লিপুলেখ এবং নাথুলা—দুই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথেই বাণিজ্যিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। তবে এই ‘থাও’ এখনও সতর্ক এবং সীমান্ত সমস্যাই দুই দেশের সম্পর্কের স্থায়ী স্বাভাবিকীকরণের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ব্রিকসের মঞ্চে ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন পরীক্ষা

ভারতের সভাপতিত্বে ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। এই মঞ্চে ভারত একদিকে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে চাইছে, অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গেও নিজের কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে। ব্রিকসের সম্প্রসারণের ফলে গোষ্ঠীটি আরও শক্তিশালী হলেও সদস্য দেশগুলির মধ্যে ভূরাজনৈতিক মতপার্থক্যও বেড়েছে।

শি-র ভারত সফর তাই শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক সফর নয়। সীমান্তে শান্তি, বাণিজ্য ঘাটতি, বিনিয়োগ এবং সরবরাহ-শৃঙ্খল—সব মিলিয়ে ভারত-চিন সম্পর্ক সত্যিই নতুন পর্যায়ে ঢুকছে কি না, তার বড় পরীক্ষা হতে চলেছে এই ব্রিকস সম্মেলন।

আরও খবর