Shashi Tharoor BRICS
দিল্লিতে ১২-১৩ সেপ্টেম্বর BRICS সম্মেলনের আগে একই দলের দুই প্রবীণ নেতা পি চিদম্বরম এবং শশী থারুরের বক্তব্যে উঠে এল ভিন্ন সুর। চিদম্বরম সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনগুলি থেকে ভারতের কোনও উল্লেখযোগ্য বা বাস্তব লাভ দেখতে পাচ্ছেন না বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এক দিন পরেই তাঁরই দলের সাংসদ শশী থারুর ব্রিকসের গুরুত্ব এবং ভারতের জন্য তার কূটনৈতিক সুবিধার কয়েকটি দিক তুলে ধরলেন।
দিল্লিতে BRICS Summit 2026-এর প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ পি চিদম্বরম প্রশ্ন তোলেন—BRICS, SCO, G20 এবং QUAD-এর মতো একাধিক বহুপাক্ষিক গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে ভারত বাস্তবে কী সুবিধা পাচ্ছে?
সংবাদ সংস্থা ANI-কে চিদম্বরম বলেন, গত দুই-তিনটি BRICS সম্মেলন থেকে তিনি কোনও ‘Tangible benefit’ বা উল্লেখযোগ্য ফল দেখতে পাননি। তবে তাঁর বক্তব্যে এটাও ছিল যে, আগের কিছু BRICS সম্মেলন থেকে ভারত কিছু বাস্তব সুবিধা পেয়েছিল।
চিদম্বরমের মন্তব্যের পরেই বিজেপি পাল্টা আক্রমণ করে। শাসক দলের নেতারা তাঁর মন্তব্যকে ভারতের আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেসের নেতিবাচক মনোভাবের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
চিদম্বরমের মন্তব্যের পর শশী থারুর ব্রিকসের পক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এই গোষ্ঠী Global South-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
থারুরের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান ১১ সদস্যের BRICS বিশ্বের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪১ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে এই গোষ্ঠীকে ছোট কোনও কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা যায় না।
থারুর আরও বলেন, ভারত ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে—এটি দেশের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মানের বিষয়। বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে একই মঞ্চে নিয়ে আসার ক্ষমতা ভারতের ‘diplomatic convening power’-এর পরিচয় দেয় বলেও তাঁর মত।
থারুরের মতে, ব্রিকসের গুরুত্ব শুধুমাত্র সরাসরি বাণিজ্যিক লাভে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের প্রভাব, Global South-এর দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন দেশের নেতাদের একই মঞ্চে নিয়ে আসার ক্ষমতাও এর অংশ।
তিনি বলেন, বিশ্বের ১০০-র বেশি দেশকে Global South-এর অংশ হিসেবে দেখা হলেও ব্রিকসের ১১টি দেশ তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিকে প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে ভারতের সভাপতিত্বে এই দেশগুলিকে একত্রিত করা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
শুধু সুবিধার কথা বলেননি থারুর। তাঁর মতে, ব্রিকসের অন্যতম বড় সমস্যা হল সদস্য দেশগুলির মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতৈক্যে পৌঁছনো কঠিন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন। চলতি বছরের মে মাসে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে সদস্য দেশগুলির মতপার্থক্যের কারণে কোনও যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। পরিবর্তে ভারত চেয়ারম্যান হিসেবে একটি Chair’s Declaration জারি করেছিল।
থারুরের মতে, ভবিষ্যতের সম্মেলনেও যদি একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে তা গোষ্ঠীটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
ব্রিকসের আর একটি বাস্তব সমস্যা হিসেবে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেন থারুর।
তাঁর বক্তব্য, ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও ভারতের ক্ষেত্রে তার ভারসাম্য অনুকূল নয়। ব্রিকস সদস্য দেশগুলিতে ভারতের রফতানি কমেছে, বিপরীতে ওই দেশগুলি থেকে ভারতের আমদানি বেড়েছে। ফলে শুধু বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়লেই ভারতের লাভ হচ্ছে—এমনটা বলা যায় না।
চিদম্বরম এবং থারুরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে ব্রিকসের মূল্যায়ন নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যে অন্তত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে।
চিদম্বরম জোর দিয়েছেন গত কয়েকটি সম্মেলনের বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের উপর। অন্যদিকে থারুর সরাসরি অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব, Global South-এর নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদাকেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে যখন BRICS Summit 2026 বসতে চলেছে, তখন এই দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই ভারতের BRICS নীতি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।