earbuds hearing loss
স্মার্টফোনের সঙ্গে ইয়ারবাড এখন দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় গ্যাজেট। গান শোনা থেকে শুরু করে ফোনে কথা বলা, পডকাস্ট বা ভিডিও দেখা—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে ছোট এই ওয়্যারলেস ডিভাইস। কিন্তু ইয়ারবাডের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে অতিরিক্ত শব্দের কারণে শ্রবণশক্তির ক্ষতির আশঙ্কা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা শুধু ইয়ারবাড ব্যবহার করাতেই নয়। আসল বিষয় হল কত জোরে এবং কতক্ষণ শব্দ শোনা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইস ব্যবহার করলে কানের সংবেদনশীল কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সেই ক্ষতি স্থায়ীও হতে পারে।
ভারতে স্মার্টফোন ও ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইসের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। যাতায়াতের সময়, অফিসে কাজ করার সময়, শরীরচর্চা কিংবা অবসর—সব ক্ষেত্রেই ইয়ারবাড এখন অনেকের সঙ্গী।
কিন্তু বাইরে যানবাহনের শব্দ বা ভিড়ের মধ্যে ইয়ারবাডে গান শোনার সময় অনেকেই আশপাশের আওয়াজ ঢেকে দিতে ভলিউম বাড়িয়ে দেন। এই অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইসের মাধ্যমে অনিরাপদ মাত্রায় শব্দ শোনার কারণে বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী শ্রবণশক্তি ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছেন। WHO-র তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইস ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ এমন মাত্রায় শব্দ শোনেন যা শ্রবণশক্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ইয়ারবাড নিজে থেকেই শ্রবণশক্তি নষ্ট করে—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। ঝুঁকির মূল কারণ হল উচ্চ শব্দে দীর্ঘক্ষণ এবং বারবার এক্সপোজার।
WHO বলছে, শব্দ যত জোরে হবে, নিরাপদে শোনার সময় তত কমবে। উদাহরণ হিসেবে, ৮০ ডেসিবেলে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত শোনা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকলেও ৯০ ডেসিবেলে সেই সময় নেমে আসে মাত্র চার ঘণ্টায়।
দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দে থাকার ফলে কানের ভেতরের সংবেদনশীল কোষ ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। বারবার এমন হলে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস বা টিনিটাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
AIIMS দিল্লির বিশেষজ্ঞরাও ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁদের মতে, উচ্চ শব্দে দীর্ঘ সময় গান বা অন্য অডিও শোনার ফলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমতে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, এই ক্ষতি অনেক সময় শুরুতে বোঝা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইসের ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার ৬০ শতাংশের নিচে রাখা এবং দীর্ঘ সময় একটানা না শোনা। প্রায় এক ঘণ্টা শোনার পর বিরতি নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
WHO-র নিরাপদ শোনার নির্দেশিকাতেও ডিভাইসের সর্বোচ্চ ভলিউমের ৬০ শতাংশের বেশি না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং সম্ভব হলে ভালোভাবে ফিট করা noise-cancelling হেডফোন ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
এর কারণ, বাইরে অতিরিক্ত শব্দ থাকলে মানুষ সাধারণত ভলিউম বাড়িয়ে দেয়। ভালো noise isolation থাকলে তুলনামূলক কম ভলিউমেই অডিও শোনা সম্ভব।
কানে বারবার বা দীর্ঘক্ষণ শোঁ শোঁ বা ঘণ্টাধ্বনির মতো শব্দ শোনা, উচ্চ স্বরের শব্দ শুনতে অসুবিধা হওয়া অথবা ভিড়ের মধ্যে কথাবার্তা বুঝতে সমস্যা হওয়া শ্রবণশক্তির সমস্যার সতর্কসংকেত হতে পারে।
বিশেষ করে গান বা অডিও শোনার পর নিয়মিত কানে শব্দ হতে থাকলে বিষয়টি উপেক্ষা না করে শ্রবণ পরীক্ষা করানো উচিত। WHO-ও দীর্ঘস্থায়ী টিনিটাস বা শুনতে অসুবিধা হলে পেশাদারের পরামর্শ নিতে বলেছে।
বিশেষজ্ঞদের বার্তা ইয়ারবাড পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং নিরাপদভাবে ব্যবহার করাই মূল কথা।
কম ভলিউমে শোনা, একটানা দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করা, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং কোলাহলপূর্ণ জায়গায় ভলিউম বাড়ানোর বদলে ভালোভাবে ফিট করা noise-cancelling ডিভাইস ব্যবহার করা—এই অভ্যাসগুলি ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অর্থাৎ, কোটি কোটি ইয়ারবাড বিক্রি হওয়া নিজে কোনও ‘শ্রবণ সংকট’-এর প্রমাণ নয়। কিন্তু সেগুলির উচ্চ ভলিউমে, দীর্ঘক্ষণ এবং নিয়মিত ব্যবহার ভবিষ্যতে প্রতিরোধযোগ্য শ্রবণশক্তি ক্ষতির বোঝা বাড়াতে পারে।