Suvendu Durga Puja controversy
মার্কসবাদী সাহিত্য ও পত্রিকার স্টল নিয়ে বামেদের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলে কড়া মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, দুর্গাপুজোর সময় কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টলে ‘শারদোৎসব’ লেখা হলে সেই স্টল করতে দেওয়া উচিত নয়। সনাতন ধর্ম ও গেরুয়া রাজনীতিকে নিশানা করা হলে ভবিষ্যতে কঠোর পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিধানসভায় পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এক শ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের পরিচয় নিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন এবং বেছে বেছে গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করছেন। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজোর সময় কমিউনিস্টদের যে বুকস্টলগুলি বসে, সেখানে ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে ‘শারদোৎসব’ লেখা হলে সেই স্টল করতে দেওয়া উচিত নয়।
অর্থাৎ, পুজোর সময়ে বইয়ের স্টল করার ক্ষেত্রে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দটির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে তুলে না ধরে এর ধর্মীয় পরিচয়কেও স্বীকার করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ বাম শাসনের সময়ে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের বাইরে মার্কসবাদী সাহিত্য ও পত্রিকার স্টল দেওয়ার একটি পরিচিত সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। পুজোর ভিড়কে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলের মতাদর্শ প্রচারের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই বইয়ের স্টল।
২০১১ সালের পর সেই ছবিতে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। অধিকাংশ পুজোমণ্ডপের বাইরে আগের মতো বড় আকারে সিপিএমের বইয়ের স্টল আর দেখা যায় না। তবে কলকাতার কয়েকটি জায়গা-সহ কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এখনও এই ধরনের স্টল বসে। সেখানে মার্কসবাদী সাহিত্য, রাজনৈতিক বই ও বিভিন্ন পত্রিকা বিক্রি করা হয়।
১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে দুর্গাপুজোয় বইয়ের স্টল দেওয়ার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি পরিচিত ঐতিহ্যে পরিণত হয়। এখনও সেখানে বামপন্থী সাহিত্য ও পত্রিকা বিক্রির স্টল দেখা যায়।
এই ঐতিহ্যকেই এবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বই বিক্রি বা মতাদর্শ প্রচারে আপত্তি নেই। কিন্তু দুর্গাপুজোর সময় স্টল বসালে সেটি যে দুর্গাপুজো উপলক্ষে বসানো হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। ‘শারদোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পরিচয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া উচিত নয় বলেই তাঁর বক্তব্য।
ফলে দুর্গাপুজোয় বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে শুভেন্দুর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এসেছে রাজ্যের সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের পুরনো বিতর্ক।