Suvendu Adhikari Bageshwar Baba controversy
বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগ ঘিরে কড়া বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর থানার সামনে যারা ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত, তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ (Suvendu Adhikari Bageshwar Baba controversy) দেওয়ার কথা বিধানসভায় জানালেন তিনি।
দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করে সম্প্রতি বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মধ্যপ্রদেশের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে বাংলায় তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বাঙালি সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদও শুরু হয়।
এর মধ্যেই ভবানীপুর থানায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। পাশাপাশি থানার সামনে তাঁর ছবি ও কুশপুতুল পোড়ানোর অভিযোগও ওঠে। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে এবার কড়া অবস্থান জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু জানান, ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনা তিনি জানতে পেরেছেন। তাঁর দাবি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, এই ঘটনায় যারা জড়িত তাঁদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করতে হবে।
শুভেন্দুর বক্তব্য, কোনও ধর্মগুরু কোনও বিষয়ে নিজের মতামত জানাতেই পারেন। কেউ সেই মত গ্রহণ করবেন কি না, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে একজন ধর্মগুরুর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করা মেনে নেওয়া হবে না।
একইসঙ্গে বিরোধীদের আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, তোষণের রাজনীতি করার কারণেই তাঁদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে। বিধানসভায় দলের সংখ্যা নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি এবং উপনির্বাচনের পর বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে দাবি করেন।
দুর্গাপুজোর আগে বাংলায় এসে নিজের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাওয়ার সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে, পুজোর সময়ে আমিষ খাওয়া ব্যক্তিদের ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড বলে অভিহিত করা হয়। একইসঙ্গে ওই সময়ে আমিষ ত্যাগের পরামর্শও দেন তিনি।
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই বাংলায় শুরু হয় বিতর্ক। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, কোনও বহিরাগত সাধুর পরামর্শে বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদ্যাভ্যাস বদলে যাবে না। আমিষ খাওয়া নিয়ে একই ধরনের অবস্থান নিতে দেখা যায় বিজেপির আরও কয়েকজন নেতাকেও।
মুখ্যমন্ত্রীও বিধানসভায় বলেন, কোনও ধর্মগুরু তাঁর নিজের মতামত দিতে পারেন এবং মানুষ তা গ্রহণ করবেন কি না, সেটি তাঁদের বিষয়। তবে ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের কথা জানিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিলেন—মতের বিরোধিতা করা গেলেও অপমান বা আইনভঙ্গ বরদাস্ত করা হবে না।