Durga Puja 2026 Bengal
পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দুর্গাপুজো। আর সেই পুজোকে ঘিরে সোমবার একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, প্রয়োজনীয় পুজো কমিটিগুলিকে ₹১ লক্ষ করে সরকারি আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। তবে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে এই অর্থ না নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এবারের দুর্গাপুজোয় বিদ্যুতের খরচ ও ফায়ার সেফটি লাইসেন্সের ফি মকুবের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২৫ সালে রাজ্যের পুজো কমিটিগুলি ₹১ লক্ষ ১০ হাজার করে অনুদান পেয়েছিল। এবার সেই অঙ্ক কমিয়ে ₹১ লক্ষ করা হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যে সব বড় বাজেটের পুজো সরকারি আর্থিক সাহায্য ছাড়াই আয়োজন করতে পারে, তারা যেন অনুদান না নেয়।
শুভেন্দু অধিকারী বড় পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে আবেদন করে বলেছেন, তাঁরা যদি সরকারি আর্থিক সাহায্য না নেন, তাহলে তিনি তাঁদের আলাদা করে ধন্যবাদ জানাবেন। অর্থাৎ অনুদানের ক্ষেত্রে এবার আর্থিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। ছোট বা আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন পুজো কমিটিগুলির জন্য ₹১ লক্ষ সাহায্যের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পুজো কমিটিগুলির জন্য আরও বড় স্বস্তির ঘোষণা এসেছে বিদ্যুৎ এবং অগ্নিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে। এবারের দুর্গাপুজোয় বিদ্যুতের জন্য কমিটিগুলিকে কোনও টাকা দিতে হবে না। ফায়ার সেফটি লাইসেন্সও বিনামূল্যে দেওয়া হবে। ফলে পুজোর বাজেটের একটি বড় অংশে কমিটির খরচ কমবে।
একই সঙ্গে মহালয়ার আগে কোনও পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার ঐতিহ্য ও মাতৃপক্ষের গুরুত্বকে সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।
মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেনে একটি বড় সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। প্রায় চার ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ড্রোন শো ও আতশবাজির মতো আয়োজন থাকার কথা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা দুর্গাপুজোর কার্নিভ্যাল এবার আর হবে না। তার পরিবর্তে মহালয়াকে কেন্দ্র করে ইডেন গার্ডেনে বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি বিসর্জন নিয়েও নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং প্রতিমা বিসর্জনে ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এছাড়াও এবারের পুজোয় থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, অনুদানের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমলেও বিদ্যুৎ ও ফায়ার লাইসেন্সের খরচ মকুব এবং মহালয়ার দিন থেকে পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনার সিদ্ধান্তে এবারের দুর্গোৎসবের আয়োজনের ধরনে বড় পরিবর্তন আনছে রাজ্য সরকার।