Suvendu Adhikari Durga ad controversy
দুর্গাপুজোর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনে দেবী দুর্গার ১০টির বদলে ১১টি হাতের ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে ক্ষমা চাইলেন (Suvendu Adhikari Durga ad controversy) পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই এই বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিজ্ঞাপনের ভুলের জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী এবং যাঁরা ওই বিজ্ঞাপনের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার সকালে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠক সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। সেই বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত দেবী দুর্গার ছবিতে দেখা যায় ১১টি হাত। প্রচলিত দশভুজা রূপের বদলে এই ছবিতে একটি অতিরিক্ত হাত থাকায় দ্রুত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমের নেতারা বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বিজ্ঞাপনের ছবি প্রকাশ করে কটাক্ষ করেন। তৃণমূলও এই ঘটনাকে বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়।
বিতর্কের মধ্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর দাবি, বিজ্ঞাপনের ভুলটি কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয় এবং কোনও এজেন্সি ছাপার সময় ভুল করে থাকলে তা সংশোধন করে নেওয়া হবে।
শমীক বলেন, তিনি বিজ্ঞাপনটি নিজে দেখেননি। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রসিকতার সুরে বলেন, ‘মা দুর্গা আরও শক্তিশালী হয়ে গেছেন’। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিজ্ঞাপনের ভুল সংশোধন করা হবে।
এরপরই পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, সরকারি বিজ্ঞাপনটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ক্ষমা চাইছেন।
তিনি আরও জানান, বিজ্ঞাপন তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সরকারি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আরও যত্ন নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এর ফলে বিজ্ঞাপনকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক বিতর্কে আপাতত ইতি টানার চেষ্টা করল রাজ্য সরকার।
দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের একাধিক কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। তারই মধ্যে সরকারি বিজ্ঞাপনের এই ভুল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনার পর এখন নজর থাকবে, ভবিষ্যতে সরকারি প্রচারে এই ধরনের ভুল এড়াতে কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।