• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Sujit Bose bail case

সুজিত বসুর জামিন মামলায় বড় মোড়, চেম্বারে ফাইল চাওয়ার অভিযোগে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ

সুজিত বসুর জামিন মামলায় বড় মোড়। শুনানি শেষ হয়ে রায় সংরক্ষিত থাকার পরও মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। চেম্বার থেকে মামলার নথি নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সুজিত বসুর জামিন মামলায় বড় মোড়, চেম্বারে ফাইল চাওয়ার অভিযোগে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ

Sujit Bose bail case

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 21, 2026 2:07 pm
  • Update:August 21, 2026 2:07 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

সুজিত বসুর জামিন মামলায় বড়সড় মোড় এসেছে কলকাতা হাই কোর্টে। শুনানি শেষ হওয়ার পরও মামলার রায় দিতে পারলেন না বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তিনি নিজেই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিচারপতির চেম্বার থেকে মামলার নথি নেওয়ার চেষ্টা নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির জেরে এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

শুনানি শেষ, রায়ও ছিল সংরক্ষিত

সুজিত বসুর জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে শুনানি চলছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের একক বেঞ্চে। ১৭ অগস্ট মামলার শুনানি শেষ হয়। এরপর বিচারপতি রায় সংরক্ষণ করেছিলেন। অর্থাৎ, পরবর্তী পর্যায়ে তাঁরই জামিনের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল।

কিন্তু তার পরের দিনই পরিস্থিতি বদলে যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৮ অগস্ট বিচারপতি যখন এজলাসে ছিলেন, তখন সুজিত বসুর পক্ষে সওয়াল করা এক আইনজীবী তাঁর চেম্বারে যান। সঙ্গে ছিলেন বিচারপতির ব্যক্তিগত সচিব। অভিযোগ, চেম্বারের বাইরে থাকা কর্মীদের কাছে মামলার রেকর্ড আনার কথা বলা হয়। কর্মীরা নথি দিতে রাজি হননি। এরপর চেম্বারে ঢুকে মামলার নথি দেখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে।

‘অবাঞ্ছিত উদ্দেশ্য’-এর গন্ধ, সরলেন বিচারপতি

ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। ১৯ অগস্টের আদেশে তিনি এই আচরণকে গুরুতরভাবে নিন্দা করেন। এমনকী, ঘটনার মধ্যে ‘অবাঞ্ছিত উদ্দেশ্য’-এর ইঙ্গিত রয়েছে বলেও পর্যবেক্ষণ করেন। এরপরই তিনি কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নজরে বিষয়টি আনেন। পরে মামলাটি আর নিজের এজলাসে না রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

এর ফলে এখন সুজিত বসুর জামিনের আবেদন নতুন বেঞ্চের সামনে যেতে হবে। নতুন বেঞ্চে মামলাটি কীভাবে এগোবে, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। আগের শুনানির যুক্তিগুলি সরাসরি গ্রহণ করা হবে কি না, নাকি নতুন করে শুনানি হবে, তা পরবর্তী প্রশাসনিক নির্দেশের উপর নির্ভর করবে।

পুরনিয়োগ মামলায় জেল হেফাজতে সুজিত

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুকে চলতি বছরের ১১ মে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫০ জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছে ইডি। তবে এগুলি তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ। আদালতে এখনও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

১৭ অগস্টের শুনানিতে সুজিত বসুর আইনজীবী দাবি করেছিলেন, পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত অনেকটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই দীর্ঘদিন জেলে রাখার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, ইডি জামিনের বিরোধিতা করে। এর পরেই রায় সংরক্ষণ করেছিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।

এখন বিচারপতির সরে দাঁড়ানোর ফলে গোটা মামলাই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন বেঞ্চের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর আইনজীবী মহল থেকে রাজনৈতিক মহলের। সুজিত বসুর জামিনের আবেদন শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।

আরও খবর