Pakistan High Commission
ইটের বদলা পাটকেল! দিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশনের বাইরে চলল বুলডোজার। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হল একাধিক নির্মাণ। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ওই কাঠামোগুলি অনুমোদিত সীমানার বাইরে তৈরি করা হয়েছিল।
পাকিস্তান হাই কমিশনের বাইরে এবং ভিসা বিভাগের কাছে বেশ কিছু ব্যারিকেড ছিল। সেখানে ধাতব রেলিংও বসানো হয়েছিল। এছাড়া গেট-সহ কয়েকটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে বুলডোজার দিয়ে ওই নির্মাণগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ভিডিওতে ভাঙা রেলিং এবং ধাতব কাঠামো পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ছড়িয়ে রয়েছে ইট, কংক্রিট এবং প্লাস্টারের টুকরোও।
#WATCH | Delhi | Indian authorities dismantle the external security perimeter outside the Pakistan High Commission, removing traffic bollards and barricades that previously ring-fenced the diplomatic compound. pic.twitter.com/QYvbj7s7fE
— ANI (@ANI) August 20, 2026
বুলডোজার অভিযানে পাকিস্তান হাই কমিশনের মূল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মূল প্রবেশপথও অক্ষত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল হাই কমিশনের বাইরে থাকা অনুমোদনহীন কাঠামোগুলি সরানো। সেখানে টিনের শেড এবং ধাতব বেড়াও ছিল বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, সরকারি অনুমোদিত সীমানার বাইরে কোনও নির্মাণ করা হয়ে থাকলে তা সরানোই নিয়ম। সেই নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য।
তবে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই অভিযান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, মাত্র কয়েক দিন আগেই ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা ব্যারিকেড সরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান।
গত ১৭ আগস্ট ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা ব্যারিকেড সরিয়ে দেয় পাকিস্তান। ওই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তার তিন দিনের মধ্যেই দিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশনের বাইরে অভিযান চালিয়ে বেআইনি কাঠামো সরিয়ে দেওয়া হল।
ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত ইসলামাবাদের তরফে কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর পাশাপাশি পাকিস্তানে ভারতীয় হাই কমিশনকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে নজরদারি এবং চরবৃত্তির অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন সময়ে।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লির অভিযান কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি মূলত অনুমোদনহীন নির্মাণ সরানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।
এখন নজর রয়েছে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে। দিল্লির এই পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামাবাদ কোনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয় কি না, সেটাই দেখার।