• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Jadavpur University Clash

যাদবপুরে গেরুয়া বনাম লাল, সংঘাতের আঁচ হাই কোর্টে

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জিবি মিটিং ঘিরে এসএফআই ও এবিভিপি-র সংঘর্ষের আঁচ পৌঁছল কলকাতা হাই কোর্টে। দ্রুত শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। নতুন মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যাদবপুরে গেরুয়া বনাম লাল, সংঘাতের আঁচ হাই কোর্টে

Jadavpur University Clash

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 20, 2026 1:40 pm
  • Update:August 20, 2026 1:40 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তির আঁচ এবার কলকাতা হাই কোর্টে পৌঁছে গেল। বুধবার রাতে ক্যাম্পাসে তুমুল সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, এসএফআই-সহ বাম ছাত্র সংগঠন এবং এবিভিপি-র সদস্যরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনায় দুই পক্ষেরই কয়েকজন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। একটি চলতি মামলার সঙ্গে বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনাকে যুক্ত করে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়। তবে সেই আবেদন গ্রহণ করেনি হাই কোর্ট।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই ঘটনার জন্য নতুন করে মামলা দায়ের করতে হবে। তারপরই আদালত বিষয়টি শুনবে।

জিবি মিটিং ঘিরেই অশান্তির সূত্রপাত

বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জিবি মিটিং ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠক ঘিরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এবিভিপি-র অভিযোগ, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন নেই।

তাহলে জিবি মিটিং ডাকার অধিকার কার? এই প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ করেন এবিভিপি সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করার পরই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়।

এবিভিপি-র দাবি, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। রাতের অন্ধকারে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলিও নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কর্মসূচি হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

বুধবার রাতের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে এসএফআই এবং এবিভিপি। ফলে সকাল থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়।

এবিভিপি কর্মীরা যাদবপুর থানার সামনে জমায়েত করেন। গোলপার্ক থেকে মিছিল করারও কর্মসূচি ছিল তাদের। অন্যদিকে, ৮বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমায়েত করে এসএফআই।

দুই সংগঠনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বড়সড় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এবং আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

যাদবপুর, ৮বি এবং গোলপার্ক এলাকায় একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড করা হয়। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশও।

এসএফআই-এর তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও পক্ষের ‘মাতব্বরি’ তারা মেনে নেবে না।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দ্রুত শুনানির আবেদন অবশ্য বৃহস্পতিবার গ্রহণ করেনি হাই কোর্ট।

এখন নতুন করে মামলা দায়ের করা হলে আদালত বিষয়টি শুনবে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নতুন করে কোনও সংঘর্ষ হয় কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

আরও খবর