• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Rose Valley Money Refund

রোজভ্যালির টাকা ফেরাতে ১ বছরের ডেডলাইন, ২১ হোটেল-সহ সম্পত্তি বিক্রির প্রস্তাব রাজ্যের

রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে এক বছরের সময়সীমা চাইল রাজ্য সরকার। ২১টি হোটেল-সহ সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে আদালতের নজরদারিতে টাকা ফেরতের প্রস্তাব হাই কোর্টে।

রোজভ্যালির টাকা ফেরাতে ১ বছরের ডেডলাইন, ২১ হোটেল-সহ সম্পত্তি বিক্রির প্রস্তাব রাজ্যের

Rose Valley Money Refund

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 20, 2026 1:29 pm
  • Update:August 20, 2026 1:29 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

বছরের পর বছর ধরে রোজভ্যালির টাকা ফেরতের আশায় দিন গুনছেন লক্ষ লক্ষ আমানতকারী। এবার তাঁদের জন্য নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। রোজভ্যালির সম্পত্তি বিক্রি করে দ্রুত টাকা ফেরতের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।

কলকাতা হাই কোর্টে এই প্রস্তাব পেশ করেছে রাজ্য। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে রোজভ্যালির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করা হবে। সেই তালিকায় রয়েছে ২১টি হোটেলও। সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ আমানতকারীদের ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

রাজ্যের মুখ্যসচিব রিপোর্ট আকারে এই প্রস্তাব দিয়েছেন। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নজরদারিতে পুরো প্রক্রিয়া চালানোর আবেদন জানিয়েছে রাজ্য।

পুরনো অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি নিয়ে প্রশ্ন

রোজভ্যালি মামলায় সম্পত্তি বিক্রির জন্য আগেই একটি অ্যাসেট ডিসপোজাল কমিটি তৈরি হয়েছিল। সেই কমিটির মাধ্যমে সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর উদ্যোগ শুরু হয়।

তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রক্রিয়া খুব একটা এগোয়নি। এবার ওই কমিটির কার্যক্রম নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। স্টেট ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস বা SFIO কমিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার। পরিবর্তে আদালতের নজরদারিতে নতুনভাবে সম্পত্তি বিক্রির কাজ করতে চায় সরকার।

রাজ্যের বক্তব্য, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পত্তি বিক্রি করা গেলে দ্রুত আমানতকারীদের টাকা ফেরানো সম্ভব হবে। তাই এক বছরের ডেডলাইন নির্ধারণের আবেদন জানানো হয়েছে।

১২ বছরেও শেষ হয়নি টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া

রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে কয়েক লক্ষ মানুষ তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা হারিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রতারণার অঙ্ক প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীরা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছেন।

রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুকে ২০১৫ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করে ইডি। তাঁর স্ত্রী শুভ্রা কুণ্ডুকেও পরে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। তদন্তের সময় রোজভ্যালির একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

এরপর সেই সম্পত্তি বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু গত প্রায় ১২ বছরে প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।

এবার তাই রাজ্য সরকার সরাসরি উদ্যোগ নিতে চাইছে। হাই কোর্টের নজরদারিতে সম্পত্তি বিক্রি এবং টাকা ফেরতের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। আদালত এই প্রস্তাব অনুমোদন করলে রোজভ্যালির আমানতকারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে পারে।

আরও খবর