• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Abhishek Banerjee Foreign Travel

চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রায় সুপ্রিম সায় অভিষেকের, ‘মামলা রয়েছে বলেই বাধা দেওয়া যায় না’

চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, কারও বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেই তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে বাধা দেওয়া যায় না।

চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রায় সুপ্রিম সায় অভিষেকের, ‘মামলা রয়েছে বলেই বাধা দেওয়া যায় না’

Abhishek Banerjee Foreign Travel

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 10, 2026 5:38 pm
  • Update:August 10, 2026 5:38 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে পারবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁকে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেই তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে বাধা দেওয়া যায় না।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহ অভিষেকের বিদেশযাত্রায় কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদন করেছিলেন তিনি।

এর আগে কলকাতা হাই কোর্টে বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন অভিষেক। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তার পরেই ৭ অগস্ট গভীর রাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

শীর্ষ আদালতে সোমবার সেই মামলার শুনানি হয়। সেখানেই হাই কোর্টের নির্দেশের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেয়ে যান অভিষেক।

হাই কোর্টে কেন খারিজ হয়েছিল আবেদন?

অভিষেকের বিদেশযাত্রা নিয়ে আইনি টানাপড়েন শুরু হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে সেখানে আবেদন করেছিলেন তিনি।

বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের নির্দেশ ছিল, বিদেশে চিকিৎসার আগে অভিষেককে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে যেতে হবে।

এসএসকেএমের চক্ষু বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অভিষেকের শারীরিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছিল। বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

হাই কোর্টের বক্তব্য ছিল, যদি চিকিৎসকেরা জানান যে অভিষেকের নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা কলকাতায় সম্ভব নয় এবং বিদেশে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন, তা হলে সেই মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কিন্তু অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জানিয়ে দেন, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম হাসপাতালে যাবেন না। এর পরেই আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।

এই নির্দেশের পর আর দেরি করেননি অভিষেক। বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

‘মামলা রয়েছে বলেই চিকিৎসায় বাধা নয়’, পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের

এই মামলায় রাজ্যের তরফে অভিষেকের বিদেশযাত্রায় আপত্তি জানানো হয়েছিল। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে অভিষেকের বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

রাজ্যের বক্তব্য ছিল, অভিষেককে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিদেশযাত্রার আগে প্রয়োজনীয় শর্ত আরোপ করা উচিত।

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য চিকিৎসার অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলছে বলেই তাঁকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

আদালত আরও জানিয়েছে, একজন ব্যক্তির বিদেশে যাওয়ার এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা পরিষেবা নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

এই পর্যবেক্ষণই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হাই কোর্ট যেখানে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের জন্য এসএসকেএমের মেডিক্যাল বোর্ডের কথা বলেছিল, সেখানে শীর্ষ আদালত তিন সপ্তাহের বিদেশযাত্রার অনুমতি দিয়েছে।

ফলে আপাতত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিষেকের সামনে আর আইনি বাধা থাকছে না।

তিন সপ্তাহ বিদেশে থাকার অনুমতি, রাজনৈতিক মহলেও চর্চা

অভিষেককে আগামী তিন সপ্তাহ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই সময় তাঁর বিদেশযাত্রায় কোনও বাধা তৈরি না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তবে মামলাটির সঙ্গে শুধু চিকিৎসার বিষয়ই জড়িয়ে নেই। অভিষেকের বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার কারণে বিষয়টি রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যের আপত্তির অন্যতম কারণ ছিল সেই মামলাগুলিই। তদন্তের স্বার্থে বিদেশযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সরকার। অন্যদিকে অভিষেকের পক্ষের বক্তব্য ছিল, চিকিৎসার প্রয়োজনকে আইনি মামলার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে সেই যুক্তিই গুরুত্ব পেয়েছে।

এর আগে এই মামলাটি প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে উঠেছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চ মামলাটি ফের হাই কোর্টে পাঠিয়েছিল। সাত দিনের মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

সেই নির্দেশ মেনেই হাই কোর্টে শুনানি হয়। কিন্তু সেখানে বিদেশযাত্রার অনুমতি না মেলায় ফের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক।

এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিদেশ যাওয়ার পথ খুলে গেল।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, একদিকে অভিষেকের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন মামলা এবং অন্যদিকে তাঁর চিকিৎসার অধিকার—দুই বিষয়ই এই মামলায় মুখোমুখি হয়েছিল।

তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আপাতত স্পষ্ট। চিকিৎসার জন্য আগামী তিন সপ্তাহ বিদেশ যেতে পারবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, এই কারণটিকে একা বিদেশযাত্রা আটকানোর ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়নি।

এখন নজর থাকবে অভিষেকের বিদেশযাত্রা এবং চিকিৎসা শেষে তাঁর দেশে ফেরার পরবর্তী আইনি পরিস্থিতির দিকে।

আরও খবর