Jharkhand Students Protest
ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও জট কাটেনি বলে দাবি পড়ুয়াদের। সরকারের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছিল, আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনটি পরীক্ষা বাতিলও করা হয়েছে।
তবে তাতেও সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাই এবার সরাসরি বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার এই কর্মসূচি হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শান্তিপূর্ণ এই মিছিলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পড়ুয়াদের যোগ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের দাবি, নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে হলে শুধু পরীক্ষা বাতিল করলেই হবে না। পুরো ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে হবে।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তরে অনিয়ম হয়েছে। প্রশ্নপত্র থেকে পরীক্ষা পরিচালনা, ফলপ্রকাশ থেকে নিয়োগের বিভিন্ন ধাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এই অভিযোগের প্রতিবাদে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছেন পড়ুয়ারা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরীক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের মূলত তিনটি দাবি রয়েছে। প্রথমত, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। সেই তদন্ত সিবিআই এবং ইডির মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে করানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দ্বিতীয়ত, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিল রাখতে হবে। তৃতীয়ত, গোটা নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
পড়ুয়াদের বক্তব্য, শুধু কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের অভিযোগ না ওঠে, তার জন্য নিয়োগ ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।
আন্দোলনের মধ্যেই পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল ঝাড়খণ্ড সরকার। সরকারের তরফে জানানো হয়, পরীক্ষার্থীদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি পূরণ করা হয়েছে বলেও সরকারের তরফে দাবি করা হয়।
সরকার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে তিনটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে আন্দোলনকারীরা সরকারের এই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল করাই তাঁদের মূল দাবি নয়। তাঁরা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত চান।
বিশেষ করে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন পড়ুয়ারা। এই জায়গাতেই সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মূল মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে খবর।
পড়ুয়াদের দাবি, রাজ্য সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থায় তদন্ত হলে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।
রবিবার মোরাবাদির সরকারি অতিথিশালায় ফের সরকারপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বৈঠক হয়। কিন্তু সেই বৈঠকও শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধানসূত্র দিতে পারেনি।
এর পরেই সোমবার বিধানসভা অভিযানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, সোমবার শান্তিপূর্ণ মিছিল করে বিধানসভা অভিযানে যাবেন তাঁরা। পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন বিধানসভা ভবন পর্যন্ত এই মিছিল হওয়ার কথা।
এই কর্মসূচিতে রাজ্যের সব জেলার প্রতিবাদী পড়ুয়াদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
ছাত্রনেতা সঞ্জয় মেহতা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিন দফা আলোচনার পরেও সরকারের তরফে তাঁদের ১০০ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই সোমবার বিধানসভা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এবং পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। দাবি না মানা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সরকারের দাবি অনুযায়ী ইতিমধ্যে ৯৮ শতাংশ দাবি পূরণ করা হয়েছে। তিনটি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সিবিআই তদন্তের দাবি।
এই দাবিতে সরকার কতটা নমনীয় হয়, সেটাই এখন দেখার। সোমবারের বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে রাঁচিতে প্রশাসনের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে। রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং যোগ্য প্রার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
এখন দেখার, বিধানসভা অভিযানের পর সরকার এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মধ্যে ফের আলোচনা শুরু হয় কি না। নাকি নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হয়।