Indian Tea Grower
বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে ভারতীয় নাগরিককে অপহরণের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে জলপাইগুড়িতে। অপহৃত যুবককে দেশে ফেরাতে এবারও শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। তাঁকে ফেরানোর জন্য সীমান্তে আটক এক বাংলাদেশি নাগরিককে ছেড়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার বিকেলে ফের ফ্ল্যাগ মিটিং করে বিএসএফ। তবে দ্বিতীয় বৈঠকও কোনও সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে বলে খবর। এর আগে শনিবারও সীমান্তে বিএসএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকও নিষ্ফলা হয়।
ঘটনার জেরে চাউলহাটি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত দীপঙ্কর গোপকে দেশে ফেরানোর দাবি উঠেছে। প্রশাসনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
জলপাইগুড়ির চাউলহাটির তসরপাড়া এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর গোপ। সীমান্ত লাগোয়া একটি চা-বাগান থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে ঢুকে দীপঙ্করকে অপহরণ করা হয়। তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এরপরই তাঁকে ফেরানোর জন্য একটি শর্ত সামনে আসে।
গত ৬ আগস্ট চাউলহাটি সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার সময় তজিমুদ্দিন ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে বিএসএফ। তাঁর বয়স ৬০ বছর। অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে।
বিএসএফ পরে তজিমুদ্দিনকে রাজগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল জেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি তুলেছে অপহরণকারীরা বলে অভিযোগ।
এই দাবি মেনেই দীপঙ্করকে ফেরানোর কথা বলা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে আন্তর্জাতিক সীমান্তে এই ধরনের শর্ত মেনে কোনও বন্দি বিনিময়ের প্রশ্ন নেই বলেই মনে করছে ভারতীয় পক্ষ।
দীপঙ্করকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হওয়ার পর সীমান্তে বিএসএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের যোগাযোগ হয়। শনিবার একটি ফ্ল্যাগ মিটিং হয়। কিন্তু সেই বৈঠক থেকে কোনও সমাধান বেরোয়নি।
রবিবার বিকেলেও ফের বৈঠকে বসে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের খবর, দ্বিতীয় বৈঠকেও বাংলাদেশি পক্ষের অবস্থানে পরিবর্তন হয়নি।
ফলে দীপঙ্করকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার রবিবার সীমান্ত এলাকায় যান। তিনি বিএসএফ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর দাবি, অপহৃত ভারতীয় নাগরিককে ফেরাতে বাংলাদেশি পক্ষ শর্ত চাপাচ্ছে।
বিধায়ক বলেন, দীপঙ্করকে ফিরিয়ে আনতে বিএসএফ নিজেদের মতো করে সবরকম চেষ্টা করছে। তবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অমান্য করে একজন ভারতীয় নাগরিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দীনেশ সরকারের বক্তব্য, কোনও দেশের নাগরিককে নিজেদের দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। তাঁর মতে, এই ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার খবর পৌঁছেছে জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়ের কাছেও। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর নজরে আনা হবে।
সাংসদের বক্তব্য, দীপঙ্কর গোপকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্তরেও বিষয়টি জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে কুকুরজান গ্রাম পঞ্চায়েতের চাউলহাটি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের দাবি, সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত দীপঙ্করকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চা-বাগান সংলগ্ন এলাকায় কর্মরত শ্রমিক এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মদতের যে অভিযোগ উঠেছে, তার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট। একজন ভারতীয় নাগরিককে অপহরণের অভিযোগ এবং তাঁকে ফেরানোর বিনিময়ে অন্য একটি মামলায় আটক ব্যক্তিকে মুক্তির দাবি সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এখন নজর রয়েছে বিএসএফ এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পরবর্তী আলোচনার দিকে। পাশাপাশি দীপঙ্কর গোপকে নিরাপদে দেশে ফেরাতে ভারতীয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেও তাকিয়ে পরিবার এবং সীমান্ত এলাকার মানুষ।