DA Arrears
ডিএ মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপর আরও চাপ বাড়ল। এ বার প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি কর্মীর বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট গঠিত মনিটরিং কমিটি।
কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের ই-সার্ভিস বুক ইতিমধ্যে স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে, তাঁদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মেটাতে হবে।
এই টাকা আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬৪,৭৫৯ জন কর্মীর ই-সার্ভিস বুক ইতিমধ্যে স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে। ফলে এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে রাজ্যকে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত মনিটরিং কমিটি ইতিমধ্যেই নিজেদের রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার শুনানিতে কমিটি নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছিল।
এর পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সেই বক্তব্য রিপোর্ট আকারে সব পক্ষকে পাঠানো হয়েছে।
ডিএ মামলায় দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। এ বার সেই মামলাতেই নতুন সময়সীমা সামনে এল।
মনিটরিং কমিটি জানিয়েছে, যেসব কর্মীর ই-সার্ভিস বুকের তথ্য ইতিমধ্যে আপডেট হয়েছে, তাঁদের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি আটকে রাখা যাবে না। ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই টাকা মিটিয়ে দিতে হবে।
রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ৬৪,৭৫৯ জন কর্মীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে। তাঁদের বেতন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এখন সরকারের হাতে রয়েছে।
তাই ওই কর্মীদের ডিএ হিসাব করে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে আর দেরি করা উচিত নয় বলেই কমিটির অবস্থান। এই নির্দেশ সামনে আসার পর সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মীরা।
তবে এই নির্দেশের বাস্তবায়ন কী ভাবে হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা মেটাতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
ডিএ মামলায় রাজ্যের উপর যে বিপুল আর্থিক দায় রয়েছে, সেটিও সামনে এসেছে।
২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১১,৯৮৩ কোটি টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এই বিপুল অর্থ কী ভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে মেটানো হবে, তা ঠিক করতেই সুপ্রিম কোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছে।
এই কমিটি নিয়মিত ভাবে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে। মূল উদ্দেশ্য হল, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার পাশাপাশি সরকারের উপর একসঙ্গে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না ফেলা।
বকেয়া অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে এর আগে একাধিক বার আলোচনা হয়েছে।
রাজ্য সরকারও নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি এবং কর্মীদের তথ্য সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানিয়েছে।
বিশেষ করে পুরনো কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলে রাজ্যের তরফে কমিটিকে জানানো হয়েছিল। সেই কারণেই ই-সার্ভিস বুক আপডেট করার কাজ শুরু হয়।
প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বকেয়া ডিএ-র সঠিক হিসাব তৈরি করতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
রাজ্য সরকার কমিটিকে জানিয়েছে, শুধু ৬৪,৭৫৯ জনের ই-সার্ভিস বুকই আপডেট হয়নি।
আরও ১,৩৩,৯৯১ জন কর্মীর সার্ভিস বুক আপডেট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থাৎ, বিপুল সংখ্যক কর্মীর বকেয়া ডিএ হিসাব করার কাজ এখনও চলছে।
পুরনো কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য হাতে না থাকায় এই কাজ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে রাজ্য।
তবে কমিটির বক্তব্য, যাঁদের তথ্য ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আর অপেক্ষা করা উচিত নয়। তাঁদের প্রাপ্য প্রথম কিস্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মনিটরিং কমিটি যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাতেই এই সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাকারী সরকারি কর্মীদের একাংশও দ্রুত টাকা মেটানোর দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই কী ভাবে এবং কত দিনের মধ্যে টাকা দিতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
তাই যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়াই উচিত বলে তাঁর দাবি। এখন মূল নজর ৩ সেপ্টেম্বরের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৬৪,৭৫৯ জন কর্মীর প্রথম কিস্তির ডিএ মেটে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
পাশাপাশি আরও ১.৩৩ লক্ষ কর্মীর ই-সার্ভিস বুক আপডেটের কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএ মামলায় আগামী দিনগুলিতে রাজ্য সরকার ও কর্মীদের মধ্যে এই বিষয়টি ফের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এক দিকে রয়েছে কর্মীদের দীর্ঘদিনের পাওনা।
অন্য দিকে রয়েছে রাজ্যের বিপুল আর্থিক দায়।
এ বার সুপ্রিম কোর্ট গঠিত মনিটরিং কমিটির সময়সীমা সেই টানাপড়েনে নতুন মাত্রা যোগ করল।