Career Comeback
“৩০ বছর বয়সেই মনে হয়েছিল আমার কেরিয়ার শেষ।”— এই কথাতেই শুরু হয়েছিল এক নারীর আত্মবিশ্বাস হারানোর গল্প। আর সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই। দীর্ঘ ১০ বছরের কেরিয়ার বিরতির পর আবার কর্মজীবনে ফিরে এসে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় গ্লোবাল মার্কেটিং পদে চাকরি পেয়েছেন কলকাতার বাসিন্দা শুভশ্রী মুখোপাধ্যায়। তাঁর এই সাফল্যের কাহিনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।
শুভশ্রী মুখোপাধ্যায় প্রায় এক দশক আগে নিজের পেশাগত জীবন থেকে সরে দাঁড়ান। পরিবার, সন্তান এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনে হতে থাকে, এত দীর্ঘ বিরতির পর হয়তো আর কর্মজীবনে ফেরা সম্ভব হবে না। ৩০ বছর বয়সেই তিনি মনে করেছিলেন, তাঁর পেশাগত জীবন কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। নতুন দক্ষতা অর্জন, নিজেকে আপডেট রাখা এবং ধাপে ধাপে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে আবারও চাকরির বাজারে ফেরার প্রস্তুতি নেন।
দীর্ঘ বিরতির পর শুভশ্রী আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে শুরু করেন। প্রথমদিকে একাধিক প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান।
অবশেষে তাঁর সেই পরিশ্রম সফল হয়। তিনি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গ্লোবাল মার্কেটিং-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।
তাঁর বক্তব্য, কেরিয়ারে বিরতি মানেই সব শেষ নয়। বরং নতুন অভিজ্ঞতা, জীবনের শিক্ষা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়েও আবার নতুনভাবে শুরু করা যায়।
বর্তমানে তাঁর এই গল্প বহু কর্মজীবী নারী, বিশেষ করে যাঁরা মাতৃত্ব বা পারিবারিক কারণে চাকরি ছেড়েছেন, তাঁদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
শুভশ্রীর অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
অনেকেই লিখেছেন, কর্মজীবনে বিরতি কোনও ব্যর্থতা নয়। বরং সঠিক প্রস্তুতি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ধৈর্য থাকলে আবারও সফল হওয়া সম্ভব।
ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা “রিটার্নশিপ” বা দীর্ঘ বিরতির পর কর্মজীবনে ফেরা প্রার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। ফলে কর্মক্ষেত্রে ফেরার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বেশি।
শুভশ্রীর গল্প সেই বার্তাই আরও একবার সামনে এনে দিল— বয়স বা বিরতি নয়, সাফল্যের আসল চাবিকাঠি হল অধ্যবসায় এবং নিজের উপর বিশ্বাস।