• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Mahua Moitra Plea

সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা মহুয়া মৈত্রর, কোনও সাংসদেরই ডিমকে ভয় পাওয়া উচিত নয়

ডিম ছোড়ার ঘটনার পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ভার্চুয়াল হাজিরার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শীর্ষ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করে অন্য আইনি প্রতিকারের পরামর্শ দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা মহুয়া মৈত্রর, কোনও সাংসদেরই ডিমকে ভয় পাওয়া উচিত নয়

Mahua Moitra Plea

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 7, 2026 7:00 pm
  • Update:August 7, 2026 7:00 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রর আবেদনে অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিল না সুপ্রিম কোর্ট। ডিম ছোড়ার ঘটনার পর নিরাপত্তার আশঙ্কার কথা জানিয়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ভার্চুয়াল উপস্থিতির অনুমতি চেয়েছিলেন তিনি। তবে দেশের শীর্ষ আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের আবেদন সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হাই কোর্ট বা উপযুক্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। এই নির্দেশের ফলে তদন্তে সামনাসামনি হাজিরা এড়ানোর সুযোগ আপাতত পেলেন না কৃষ্ণনগরের সাংসদ।


ডিম ছোড়ার ঘটনার পর আদালতের দ্বারস্থ মহুয়া

সম্প্রতি এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মহুয়া মৈত্রর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তিনি দাবি করেন, তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। সেই কারণেই পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্ত সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি উপস্থিত না থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

আবেদনে তাঁর আইনজীবী জানান, নিরাপত্তার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তদন্তে সহযোগিতা করার সুযোগ দেওয়া হোক। তবে আদালত প্রাথমিক শুনানিতেই জানিয়ে দেয়, এই ধরনের আবেদন গ্রহণের উপযুক্ত মঞ্চ সুপ্রিম কোর্ট নয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারি তদন্তে অভিযুক্ত, অভিযোগকারী বা সাক্ষী— সবার ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত হাজিরার প্রশ্নে নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড় মিললেও তার সিদ্ধান্ত সাধারণত সংশ্লিষ্ট আদালত নেয়।


কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় তারা হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী নয়। আদালত আবেদনটি গ্রহণ না করে মহুয়া মৈত্রকে অন্য আইনি প্রতিকার খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

শীর্ষ আদালতের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট, তদন্ত প্রক্রিয়ায় আদালত অযথা হস্তক্ষেপ করতে চায় না। যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও বাস্তব আশঙ্কা থাকে, তবে তা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা বিচারিক আদালতের সামনে তুলে ধরা যেতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন মহুয়া মৈত্রকে হয় পুলিশি নোটিস অনুযায়ী হাজিরা দিতে হবে, অথবা আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতে নতুন আবেদন করতে হবে।


রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ল

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিরোধীরা দাবি করছে, আইন সবার জন্য সমান। কোনও জনপ্রতিনিধির জন্য আলাদা নিয়ম হতে পারে না।

অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, মহুয়া মৈত্রর নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। তাই তাঁর আবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

আইনজীবীদের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্ট আবেদন খারিজ করলেও এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে অন্য আদালত কোনও বিশেষ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল হাজিরার অনুমতি দিতে পারবে না। তবে সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মামলার তথ্য, নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের বিবেচনার উপর।

ফলে আপাতত তদন্তের ক্ষেত্রে মহুয়া মৈত্রর সামনে আইনি লড়াইয়ের নতুন পর্ব শুরু হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও খবর