US Student Visa
উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা হাজার হাজার ভারতীয় পড়ুয়ার সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য জারি হওয়া মার্কিন F-1 ছাত্র ভিসার সংখ্যা এক ধাক্কায় ৬২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে চিনা পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই পতন হয়েছে মাত্র ৩৪ শতাংশ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কেন ভারতীয়দের উপর প্রভাব এত বেশি? বিশেষজ্ঞদের মতে, কড়া ভিসা যাচাই, অভিবাসন নীতির পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতে OPT কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তাই এর অন্যতম কারণ।
ওয়াশিংটনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক Center for Immigration Studies (CIS)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে অগস্টের মধ্যে ভারতীয়দের জন্য মাত্র ২২,১৪৯টি F-1 ছাত্র ভিসা ইস্যু হয়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫৮,৬৯৪।
অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ভিসা অনুমোদন কমেছে প্রায় ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে, চিনা পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে ভিসা সংখ্যা ৬১,০৭৫ থেকে নেমে হয়েছে ৪০,০৩৪। শতাংশের হিসেবে পতন ৩৪ শতাংশ।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাঠানো দেশগুলির অন্যতম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত চিনকেও ছাপিয়ে প্রথম স্থানে উঠে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে এই পতন ভারতীয় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের কঠোর ভিসা যাচাই এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
CIS তাদের রিপোর্টে Optional Practical Training (OPT) কর্মসূচি বাতিল করার সুপারিশও করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, OPT কর্মসূচি মার্কিন চাকরির বাজারে স্থানীয়দের সুযোগ কমিয়ে দেয়। আবার অনেক শিক্ষা বিশেষজ্ঞের মতে, এই কর্মসূচিই বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার অন্যতম আকর্ষণ।
ভারতীয় শিক্ষার্থীরা OPT কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্যতম। ফলে ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি নিয়ে কোনও পরিবর্তন হলে ভারতীয়দের উপর তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
শিক্ষা পরামর্শদাতাদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করার আগে এখন শিক্ষার্থীদের আরও সতর্ক হতে হবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেই হবে না, ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনা, আর্থিক সামর্থ্য এবং ভবিষ্যতের চাকরির সুযোগ—সব দিক বিবেচনা করতে হবে।
একই সঙ্গে কানাডা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি এবং ইউরোপের অন্য দেশগুলিও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত, তা আগামী কয়েক মাসেই স্পষ্ট হবে। শিক্ষা মহলের মতে, মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।