Old Monk Ban
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাম ব্র্যান্ড ওল্ড মঙ্ক-এর কয়েকটি নির্দিষ্ট ভ্যারিয়্যান্টের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)। কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার, বিভ্রান্তিকর বয়সের দাবি এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ভ্যারিয়্যান্টগুলির বিক্রি ও বিতরণ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পদক্ষেপের পর মদ প্রস্তুতকারী শিল্পে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি ব্র্যান্ডের নয়, বরং অ্যালকোহলিক পানীয়ের মান নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত।
FSSAI জানিয়েছে, চিহ্নিত কয়েকটি ভ্যারিয়্যান্টে প্রাকৃতিক পরিপক্ব রামের পরিবর্তে নিউট্রাল স্পিরিট ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে স্বাদ ও গন্ধ তৈরি করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, রামের নিজস্ব উৎপাদন পদ্ধতি ও পরিপক্বতার উপর ভিত্তি করেই তার স্বাদ ও সুগন্ধ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলিতে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়েছে।
এ কারণেই Food Safety and Standards (Alcoholic Beverages) Regulations, 2018-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে FSSAI।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে Old Monk XXX Rum-এর একটি নির্দিষ্ট ভ্যারিয়্যান্টকে ঘিরে।
বোতলের গায়ে “7 Years Old Blended” লেখা থাকলেও তদন্তে দেখা গিয়েছে, ব্যবহৃত মিশ্রণে পরিপক্ব রামের পরিমাণ ৫ শতাংশেরও কম। প্রধান উপাদান ছিল নিউট্রাল বা অপরিপক্ব স্পিরিট।
FSSAI-এর মতে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনও ব্লেন্ডেড অ্যালকোহলিক পানীয়ের বয়স নির্ধারণ করতে হয় মিশ্রণের সবচেয়ে কম বয়সি স্পিরিটের ভিত্তিতে। ফলে বোতলের গায়ে দেওয়া বয়সের দাবি বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
এই পদক্ষেপের পর অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বাজার থেকে পুরো ওল্ড মঙ্ক ব্র্যান্ডই তুলে নেওয়া হচ্ছে?
উত্তর হল, না।
FSSAI স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট উৎপাদন ইউনিটে তৈরি কয়েকটি ভ্যারিয়্যান্টের উপরই এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। গোটা ব্র্যান্ড বা সব ধরনের ওল্ড মঙ্ক রামের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।
সংস্থার বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলির ফর্মুলেশন, লেবেলিং এবং অন্যান্য নিয়ম সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবং অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ভ্যারিয়্যান্টগুলি আবার বাজারে ফিরতে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অ্যালকোহল শিল্পে মান নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করবে এবং ভোক্তাদের কাছে পণ্যের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।