• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
No Insurance Fuel

বিমা না থাকলে মিলবে না পেট্রল-ডিজেল? সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে চাপে দেশের ৫৬ শতাংশ গাড়ির মালিক

দেশে প্রায় ৫৬ শতাংশ গাড়ি এখনও বৈধ বিমা ছাড়াই চলছে। এই পরিস্থিতিতে ‘নো ইনস্যুরেন্স, নো ফুয়েল’ নীতি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পরামর্শ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পেট্রল পাম্পেই বিমা যাচাইয়ের প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

বিমা না থাকলে মিলবে না পেট্রল-ডিজেল? সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে চাপে দেশের ৫৬ শতাংশ গাড়ির মালিক

No Insurance Fuel

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 5, 2026 11:45 am
  • Update:August 5, 2026 11:45 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

গাড়ির বৈধ বিমা নেই? তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো আর পেট্রল বা ডিজেল মিলবে না। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব সামনে এসেছে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে। দেশের প্রায় ৫৬ শতাংশ গাড়ি ও বাইক এখনও বৈধ বিমা ছাড়া রাস্তায় চলাচল করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। সেই কারণেই কেন্দ্রকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘নো ইনস্যুরেন্স, নো ফুয়েল’ নীতি চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যদিও এই মুহূর্তে নতুন কোনও আইন কার্যকর হয়নি। আদালত শুধু একটি পাইলট প্রকল্প চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলেছে। তবে এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে লক্ষ লক্ষ গাড়ির মালিক সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন।

৫৬ শতাংশ গাড়ি বিমাহীন, উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫৬ শতাংশ মোটরযান বৈধ বিমা ছাড়াই চলছে। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে আদালত।

আদালতের মতে, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ এবং ভুক্তভোগীদের আর্থিক সুরক্ষার জন্য মোটর বিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বিপুল সংখ্যক গাড়ির মালিক সময়মতো বিমা নবীকরণ করছেন না।

এই কারণেই কেন্দ্রকে এমন একটি ব্যবস্থা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে, যাতে গাড়ির মালিকরা নিয়মিত বিমা নবীকরণ করতে বাধ্য হন।

পেট্রল পাম্পেই হতে পারে বিমা যাচাই

প্রস্তাব অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকায় এমন ব্যবস্থা চালু হতে পারে যেখানে পেট্রল পাম্পের কর্মীরা ডিজিটালভাবে গাড়ির বিমা যাচাই করবেন।

যদি দেখা যায় সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা কোনও বৈধ বিমা নেই, তাহলে সেই গাড়িকে পেট্রল বা ডিজেল না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

এতে বিমাহীন গাড়ির সংখ্যা দ্রুত কমবে বলে মনে করছে আদালত। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে।

রাস্তাতেও কড়া নজরদারির প্রস্তাব

শুধু পেট্রল পাম্পেই নয়, রাস্তাতেও বিমা যাচাই আরও কঠোর করার সুপারিশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

নাকা চেকিং বা ট্র্যাফিক পুলিশের নিয়মিত তল্লাশির সময় ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে গাড়ির বিমার তথ্য যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।

এছাড়া নতুন ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে বর্তমানে তিন বছরের তৃতীয় পক্ষের বিমা বাধ্যতামূলক। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে ছয় বছর করার প্রস্তাবও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য এখনও একটি নীতিগত পরামর্শ মাত্র। কেন্দ্র যদি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করে এবং তা সফল হয়, তারপরই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনও বাধ্যতামূলক নীতি আনা হতে পারে।

ফলে আপাতত সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে বৈধ বিমা রাখা যে সড়ক নিরাপত্তা এবং আইনি দিক থেকে অত্যন্ত জরুরি, সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল শীর্ষ আদালত।

আরও খবর