Digha Beach Safety
দিঘার সমুদ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে একাধিক নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শনিবার দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, সমুদ্রে স্নান করতে নামার সময় শাড়ি বা সালোয়ার কামিজের মতো ভারী পোশাক এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য ফ্লুরোসেন্ট ক্যাপ, উন্নত লাইফগার্ড ব্যবস্থা এবং ট্রমা কেয়ার পরিষেবার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সপ্তাহান্তে দিঘায় বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমুদ্রে নামেন। তাঁদের অনেকেই শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ পরে জলে নামেন। সমুদ্রের স্রোতে এই ধরনের পোশাক ভারী হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সেই কারণেই সমুদ্রস্নানের উপযোগী পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি নিরাপত্তাজনিত পরামর্শ। কেউ যদি প্রচলিত পোশাকেই নামতে চান, তাহলে উজ্জ্বল বা ফ্লুরোসেন্ট রঙের শাড়ি বা সালোয়ার ব্যবহার করলে লাইফগার্ডদের পক্ষে দূর থেকে তাঁদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।
মন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, সমুদ্রে নামা পর্যটকদের ফ্লুরোসেন্ট ক্যাপ পরার পরামর্শ দেওয়া হবে। এতে উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
এছাড়া সমুদ্রতটের প্রতি ১০০ মিটার অন্তর প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড বা বিশেষজ্ঞ মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক রাজ্য বাজেটে দিঘায় একটি ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ডুবে যাওয়া রোগীদের জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি বার্ন কেয়ার ইউনিটও থাকবে। কারণ দিঘায় প্রচুর হোটেল ও রেস্তরাঁ রয়েছে।
এছাড়া সমুদ্রতটে বা সমুদ্রে নামার আগে মদ্যপান রোধে কড়া নজরদারির কথাও বলেন তিনি। ডাবের ভিতরে মদ বিক্রির অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়াতে সচেতনতা, লাইফগার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা—এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই দিঘায় এই নতুন উদ্যোগগুলি নেওয়া হচ্ছে।