• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Dhaka University Clash

সমকামিতার অভিযোগ ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, মুখোমুখি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে একটি কক্ষে দুই অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালীন বিএনপির ছাত্রদল ও জামায়াতপন্থী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সমকামিতার অভিযোগ ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ, মুখোমুখি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির

Dhaka University Clash

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 3, 2026 8:01 pm
  • Update:August 3, 2026 8:01 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে একটি কক্ষে থাকা দুই অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্যাম্পাস। অভিযোগের তদন্তে গঠিত কমিটির বৈঠক চলাকালীন বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল এবং জামায়াত-সমর্থিত ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

তদন্ত কমিটির বৈঠকেই শুরু উত্তেজনা

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহীদুল্লাহ হলের একটি কক্ষে থাকা দুই অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ওঠার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। রবিবার সেই কমিটির বৈঠক চলাকালীন দুই ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক (শান্ত)-এর অভিযোগ, সমকামী সম্পর্কের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং হলের এজিএসকে রক্ষা করতে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা তদন্তে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিবাদ করতেই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।

পাল্টা অভিযোগ ছাত্রশিবিরের

অন্যদিকে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক তৌকির হাসান ছাত্রদলের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালীন ছাত্রদলের সদস্যরা অনুমতি ছাড়াই বৈঠকে ঢুকে চাপ সৃষ্টি করেন।

তৌকিরের অভিযোগ, পরে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সদস্যরা উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং ছাত্রশিবিরের এক সদস্যের উপর হামলা চালান। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়েও হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ফলে একই ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে দুই সংগঠন। কোন পক্ষের অভিযোগ সত্য, তা এখন তদন্তের বিষয়।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, তদন্ত চলছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন জানিয়েছেন, শহীদুল্লাহ হলে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি বলেন, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। হলের প্রিন্সিপাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগপত্র তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি এবং এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্যও নেই।

এর আগে মাস্টারদা সূর্য সেন হলেও একই ধরনের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরপর দুই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলির পরিবেশ ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আরও খবর