• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Shamik Bhattacharya

‘ডিম কিন্তু অন্য দিকেও পড়তে পারে’, তোলাবাজি বন্ধে বিজেপি কর্মীদের ১৫ দিনের আলটিমেটাম শমীকের

তোলাবাজির অভিযোগে এবার নিজের দলের কর্মীদেরই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ১৫ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধরে যান, না হলে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিজেপি কী জিনিস।’ পাশাপাশি ‘ডিম অন্য দিকেও পড়তে পারে’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

‘ডিম কিন্তু অন্য দিকেও পড়তে পারে’, তোলাবাজি বন্ধে বিজেপি কর্মীদের ১৫ দিনের আলটিমেটাম শমীকের

Shamik Bhattacharya

Published by: cloud_admin
  • Posted:August 1, 2026 8:14 pm
  • Update:August 1, 2026 8:14 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

তোলাবাজি, কাটমানি এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল বিজেপি। কিন্তু রাজ্যে সরকার গঠনের পর দলের একাংশের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। সেই আবহে নিজের দলের কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের শুধরে না নিলে দল কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।

শনিবার রাজারহাটের আইআইটি খড়গপুর রিসার্চ পার্কে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে শমীক বলেন, “শুধরে যান। না হলে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিজেপি কী জিনিস।”

‘জিরো টলারেন্স’, ১৫ দিনের সময়সীমা

বক্তৃতায় শমীক কার্যত স্বীকার করেন যে বিজেপির নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি তোলাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে তাঁর দাবি, এদের অনেকেই সম্প্রতি অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রশাসনিক স্তরে তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে দলীয় স্তরেও কড়া নজরদারি চলছে।

শমীকের কথায়, “দু-একটি জায়গায় বিচ্যুতি রয়েছে। কিন্তু তা দীর্ঘদিন চলবে না। আরও ১৫ দিনের সময় দিচ্ছি। তারপর কী হবে, সবাই বুঝতে পারবেন।”

‘ডিম থেরাপি’র প্রসঙ্গ টেনে কড়া সতর্কবার্তা

সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন নেতার দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনা উল্লেখ করে শমীক বলেন,

“এই ডিম কিন্তু ঘুরে অন্য দিকেও পড়তে পারে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।”

তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনও একদলীয় আধিপত্য দীর্ঘদিন টেকে না। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার করলে ভবিষ্যতে তার ফল ভোগ করতে হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা ২০৭— এই শরীরী ভাষা নিয়ে কেউ যদি মাঠে নামেন, তার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে।”

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, বক্তব্য শুনতে ভালো লেগেছে এবং আশা করেন এটি আন্তরিকভাবেই বলা হয়েছে।

তবে কুণালের দাবি, অতীতেও শমীক ভট্টাচার্য দলকে নিয়ে বিভিন্ন রূপরেখা দিয়েছেন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই জেলা স্তরের কর্মীরা তা মানেননি।

তাঁর অভিযোগ, দায়িত্বশীল বক্তব্য দিলেও বাস্তবে বিজেপির একাংশের কর্মীদের বিরুদ্ধে এখনও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের অভিযোগ উঠছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে সরকার গঠনের পর বিজেপির ভাবমূর্তি ধরে রাখতে শমীক ভট্টাচার্যের এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে বিরোধীদের আক্রমণ করার পাশাপাশি নিজেদের দলকেও একই মানদণ্ডে রাখার চেষ্টা করছে বিজেপি নেতৃত্ব— এমন বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি।

আরও খবর