School Dropout Rate
পশ্চিমবঙ্গে আর্থিক সমস্যা, পরিবারের কর্মসূত্রে স্থানান্তর বা অন্যান্য সামাজিক কারণে বহু পড়ুয়ার পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট। এবার সেই সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন (PBSSM) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওপেন স্কুলিং (NIOS)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, কোনও শিশুই যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষার অধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা। নতুন ব্যবস্থায় কোনও ছাত্র বা ছাত্রী যদি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে যায়, তাহলেও তার পড়াশোনা বন্ধ হবে না। NIOS-এর মাধ্যমে দেশের অন্য প্রান্তেও সে নিজের ভাষায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এবং পরীক্ষা দিতে পারবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, কোনও শিক্ষার্থী যদি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে যায়, তবুও তার পড়াশোনা বন্ধ হবে না। NIOS-এর মাধ্যমে অন্য রাজ্যের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে বসেই নিজের ভাষায় পড়াশোনা এবং পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
এই ব্যবস্থার আওতায় প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ থাকবে। নির্দিষ্ট এক বছরের মধ্যে কোর্স শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে পড়াশোনা এবং পরীক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে NIOS-এর স্টাডি সেন্টার ধাপে ধাপে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও সহজে ওপেন স্কুলিং ব্যবস্থার সুযোগ পাবেন। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে স্কুলছুটের হার কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজ্যের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে NIOS-এর স্টাডি সেন্টার গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়ারাও সহজে এই পরিষেবার সুবিধা পাবেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, স্কুলছুট কমাতে শুধু ভর্তি করানোই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনায় ধরে রাখা, মানসিক সহায়তা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং অভিভাবকদের সচেতন করাও জরুরি। পশ্চিমবঙ্গে মাধ্যমিক স্তরে স্কুলছুটের হার এখনও উদ্বেগের বিষয় বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
এই নতুন উদ্যোগ সফল হলে হাজার হাজার স্কুলছুট পড়ুয়া আবার শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারবেন। বিশেষ করে যাঁদের পড়াশোনা মাঝপথে থেমে গিয়েছিল, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে নতুন সূচনা।