NEET paper leak
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। সরকারি সূত্রের খবর, প্রশ্নফাঁস, সংগঠিত নকলচক্র এবং পরীক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে একাধিক সংশোধনের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। লক্ষ্য, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে এবং দোষীরা দ্রুত শাস্তি পায়।
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে NEET-কে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক বিষয়টিকে জাতীয় স্তরে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এবং অভিভাবক পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছিল।
সূত্রের খবর, বর্তমানে কার্যকর Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act-এ আরও কড়া বিধান যুক্ত করার কথা ভাবছে কেন্দ্র। বিশেষ করে সংগঠিত অপরাধচক্র, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি আরও বাড়ানো হতে পারে।
সরকারি মহলের মতে, শুধুমাত্র আইন তৈরি করলেই হবে না। তার দ্রুত প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। সেই কারণেই পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর ফলে তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া অনেক কম সময়ে শেষ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে জেলের মেয়াদ বৃদ্ধি, মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং সংগঠিত চক্রের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো ব্যবস্থাও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল নজরদারি, পরীক্ষাকেন্দ্রে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির জবাবদিহিতাও বাড়াতে হবে।
অভিভাবক ও পড়ুয়াদের মতে, একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস শুধু একটি পরীক্ষা নয়, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে। তাই দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই বিদ্যমান আইনকে আরও কার্যকর ও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদে তা উত্থাপন করা হতে পারে।