• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
NEET Topper Protest

প্রতিবাদে নয়, পড়াশোনাতেই ভরসা! NEET টপার পাংশুল বানসালের মন্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দেশজুড়ে আন্দোলনের মাঝেও প্রতিবাদে না গিয়ে পড়াশোনায় মন দিয়েছিলেন NEET-UG ২০২৬-এর অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক-২ পাংশুল বানসাল। তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

প্রতিবাদে নয়, পড়াশোনাতেই ভরসা! NEET টপার পাংশুল বানসালের মন্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক

NEET Topper Protest

Published by: cloud_admin
  • Posted:July 22, 2026 10:01 am
  • Update:July 22, 2026 10:01 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে যখন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, তখন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভে সামিল হন। কিন্তু সেই সময় প্রতিবাদে না গিয়ে বাড়িতে বসে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক-২ প্রাপক পাংশুল বানসাল। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পাংশুল বলেন, “আমি প্রতিবাদে যাওয়ার বদলে বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছি।” তাঁর মতে, আন্দোলনে অংশ নিলে সময় নষ্ট হতো। সেই সময়টুকু পড়াশোনায় কাজে লাগিয়ে নিজের ফল আরও ভালো করার সুযোগ ছিল।

NEET-UG ২০২৬-এর প্রথম পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভে সামিল হন। পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলনও হয়। তবে সেই সময় পাংশুল নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন।

তিনি জানান, প্রথম পরীক্ষার ফল বাতিল হওয়ার খবর শুনে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছিলেন। কারণ, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর সেই পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজেকে সামলে নতুন লক্ষ্য স্থির করেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অতীত নিয়ে চিন্তা না করে পুনঃপরীক্ষার জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেবেন।

পাংশুলের এই কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয়। প্রথম পরীক্ষায় তাঁর সম্ভাব্য নম্বর ছিল ৭০৬। পুনঃপরীক্ষায় তিনি ৭১৫ নম্বর পেয়ে দেশের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত সময় পাওয়ায় দুর্বল বিষয়গুলিতে আরও বেশি অনুশীলনের সুযোগ মিলেছিল।

তবে প্রতিবাদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি কোনও অনুশোচনা করেন না। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর পরিস্থিতি সামলানোর নিজস্ব উপায় থাকে। তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হতে চাননি।

পাংশুলের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একাংশের মতে, একজন পরীক্ষার্থীর প্রথম দায়িত্ব নিজের ভবিষ্যৎ গড়া। তাই তাঁর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং যুক্তিসঙ্গত। অন্যদিকে, অনেকেই মনে করছেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোও শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ এবং পড়াশোনা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন পথ বেছে নেবেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। সেই কারণেই পাংশুলের মন্তব্য নিয়ে মতভেদ তৈরি হলেও তাঁর সাফল্য নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।

বর্তমানে দেশের অন্যতম সেরা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাংশুল বানসাল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা জানান।

পাংশুলের বক্তব্য আবারও সামনে এনে দিয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নাকি নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা? এই বিতর্কে মতভেদ থাকলেও, তাঁর মন্তব্য এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

আরও খবর