• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Section 163 Dum Dum Airport

দমদম বিমানবন্দরে জারি ১৬৩ ধারা, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

দমদম বিমানবন্দরের বাঁকড়া মসজিদে নামাজের ডাককে কেন্দ্র করে ৭ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় জারি হয়েছে BNSS-এর ১৬৩ ধারা। মোতায়েন রয়েছে বিপুল পুলিশ, র‍্যাফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

দমদম বিমানবন্দরে জারি ১৬৩ ধারা, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর কর্মসূচি ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

Section 163 Dum Dum Airport

Published by: cloud_admin
  • Posted:July 17, 2026 4:23 pm
  • Update:July 17, 2026 4:23 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ভিতরে অবস্থিত ঐতিহাসিক বাঁকড়া (গৌরীপুর জামে) মসজিদে নামাজ পড়ার কর্মসূচির ডাককে কেন্দ্র করে প্রশাসন এই পদক্ষেপ (Section 163 Dum Dum Airport)  নিয়েছে।

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এবং সংলগ্ন এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এলাকাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‍্যাফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাখা হয়েছে জলকামানও।

কেন জারি হল ১৬৩ ধারা?

দমদম বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের একেবারে কাছে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরনো বাঁকড়া মসজিদ দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং বিমান চলাচলের নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি স্থানান্তর করা প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের ভেতর দিয়ে মসজিদে প্রবেশের পাস ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত নামাজও বন্ধ রয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই কারণেই আগাম ১৬৩ ধারা জারি করে প্রশাসন।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই পিছু হটলেন সিদ্দিকুল্লা

শুক্রবার সকালে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা করেন, এদিনের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। যদিও তিনি কর্মসূচি প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেননি।

প্রশাসনের দাবি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে, সেই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।

রুটমার্চ ও কড়া নজরদারি

শুক্রবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর সংলগ্ন বিরাটি, বাঁকড়া এবং ৭ নম্বর গেট এলাকায় পুলিশ রুটমার্চ করে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হয়। যেকোনও ধরনের অবৈধ জমায়েত বা মিছিল রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বিমান চলাচল বা যাত্রী পরিষেবায় কোনও বিঘ্ন ঘটেনি। বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও চালু ছিল।

মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক

বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বহু বছর ধরেই আটকে রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, রানওয়ের খুব কাছাকাছি মসজিদটির অবস্থান বড় বিমানের ওঠানামায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করে। সেই কারণেই মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলির একাংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তাঁদের দাবি, ঐতিহাসিক এই মসজিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

আরও খবর