Samik Bhattacharya BJP
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলবদল নিয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়ে দিলেন, কেন্দ্রীয় স্তরে কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নিচুতলায় “তৃণমূলীকরণ” হতে দেওয়া হবে না। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “ভালো তৃণমূল, খারাপ তৃণমূল বলে কিছু হয় না। তৃণমূল তৃণমূলই।”
হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় একটি সাংগঠনিক বৈঠকে দলের কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যের সংগঠনকে শক্তিশালী করাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। তাই নির্বিচারে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই।
শমীক ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করে বলেন, সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন প্রাক্তন সাংসদের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, সংসদীয় রাজনীতির প্রয়োজন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানো এবং জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক সমীকরণের কথা মাথায় রেখেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ঘটনাকে সামনে রেখে কেউ যেন না ভাবেন যে পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূল থেকে ব্যাপকভাবে নেতা-কর্মীদের বিজেপিতে নেওয়া হবে। রাজ্যের সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে আলাদা নীতি অনুসরণ করা হবে।
শমীকের এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি সংগঠনের মধ্যে একটি স্পষ্ট বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি মনে করিয়ে দেন, দলের অবস্থান আগেও স্পষ্ট ছিল এবং এখনও একই রয়েছে।
তাঁর কথায়, যাঁদের বিরুদ্ধে চাকরি দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম বা অন্য কোনও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। তবে যাঁরা সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নেই বলেই দল তাঁদের গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, একজন ব্যক্তি যখন বিজেপিতে যোগ দেন, তখন তাঁর নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতের দলীয় পরিচয় নিয়ে অনন্তকাল আলোচনা করার কোনও অর্থ নেই।
উলুবেড়িয়ার বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য মূলত সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেন। তিনি কর্মীদের বলেন, বিজেপির শক্তি বাড়াতে হলে আদর্শ, শৃঙ্খলা এবং জনসংযোগ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি কর্মীদের সতর্ক করেন, কোনওভাবেই যেন দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট না হয়। নিচুতলায় নতুন সদস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে দলের নির্দিষ্ট নীতিই অনুসরণ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দলবদল নিয়ে বিজেপির অন্দরে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য তারই জবাব। একদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংসদীয় কৌশলের অংশ হিসেবে কয়েকজন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে দলে নিয়েছে, অন্যদিকে রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়ে দিল সংগঠনের ভিত্তি দুর্বল করে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি কর্মীদের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছে যে, রাজ্যে দল গঠনের মূল ভিত্তি হবে দীর্ঘদিনের কর্মী ও আদর্শভিত্তিক সংগঠন, শুধুমাত্র দলবদল নয়।
আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ কীভাবে বদলায়, তা সময়ই বলবে। তবে শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।