SpudCell Artificial Cell
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মানুষ কি একদিন পরীক্ষাগারেই জীবন তৈরি করতে পারবে? এই প্রশ্ন বহু দশক ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। সেই স্বপ্ন এখনও পুরোপুরি বাস্তব না হলেও, গবেষণার নতুন এক সাফল্য (SpudCell Artificial Cell) বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান মহলে আলোড়ন তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের তৈরি একটি কৃত্রিম কোষ বা SpudCell জীবনের বেশ কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, জিন প্রযুক্তি এবং জীবনের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি কোনও পূর্ণাঙ্গ জীবন্ত প্রাণী নয়। বরং এটি এমন একটি সিন্থেটিক কোষ, যা জীবনের কিছু মৌলিক কার্যকলাপ পরীক্ষাগারে অনুকরণ করতে পারে।
গবেষকদের তৈরি SpudCell সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছে। এটি বাইরের পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান গ্রহণ করতে পারে। সেই উপাদান ব্যবহার করে নিজের আকার বাড়ায় এবং নিজের ডিএনএ-এর প্রতিলিপিও তৈরি করতে সক্ষম।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই কৃত্রিম কোষ বিভাজিতও হতে পারে। অর্থাৎ একটি কোষ থেকে দুটি কোষের মতো কাঠামো তৈরি হয়। জীবন্ত কোষের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্যই হলো বৃদ্ধি এবং বিভাজন।
গবেষকদের মতে, কিছু পরীক্ষায় এই কৃত্রিম কোষে প্রাথমিক ধরনের Natural Selection-এর লক্ষণও দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক সক্ষমতার ইঙ্গিত মিলেছে।
যদিও এই সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে SpudCell-কে এখনও জীবন্ত কোষ বলা যাবে না।
এর নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ বিপাক প্রক্রিয়া (Metabolism) নেই। এটি নিজে থেকে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে না। প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ জৈব যন্ত্রপাতিও এর মধ্যে নেই। ফলে এটি এখনও গবেষণাগারে সরবরাহ করা উপাদানের উপর নির্ভরশীল।
অর্থাৎ এটি জীবনের দিকে বড় একটি পদক্ষেপ হলেও, পরীক্ষাগারে সম্পূর্ণ নতুন জীবন তৈরির লক্ষ্য এখনও অনেক দূরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব আনতে পারে।
ক্যানসারের জন্য নির্দিষ্ট কোষভিত্তিক চিকিৎসা, বিরল জিনগত রোগের নতুন থেরাপি, দ্রুত ওষুধ আবিষ্কার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প উৎপাদনে কৃত্রিম কোষ ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।
এছাড়া পৃথিবীতে জীবনের সূচনা কীভাবে হয়েছিল, সেই রহস্য উন্মোচনেও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে একই সঙ্গে বিজ্ঞানী এবং নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নৈতিক ও আইনি কাঠামোও তৈরি করা জরুরি।
বর্তমানে SpudCell এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এটি ভবিষ্যতের সিন্থেটিক বায়োলজি গবেষণার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।