Barasat Hospital ID Band Order
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালগুলিতে দালালচক্র রুখতে এবং পরিষেবার মান আরও উন্নত করতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতালের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, রোগী পরিষেবা এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণে কড়া বার্তা (Barasat Hospital ID Band Order) দেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং রোগীর নির্দিষ্ট সংখ্যক আত্মীয়কে পরিচয়-ব্যান্ড পরতে হবে। এই ব্যান্ডের মাধ্যমেই বোঝা যাবে কে বৈধভাবে হাসপাতালের ভিতরে রয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যাঁদের হাতে কোনও পরিচয়-ব্যান্ড থাকবে না, তাঁদের পরিচয় যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে দালাল সন্দেহে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ভিতরে অবাধ যাতায়াত বন্ধ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তাই হাসপাতালের ভিতরে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ রোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং অন্যান্য পরিষেবা ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হাসপাতাল চত্বরে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বেড সংখ্যা, রোগীর চাপ এবং চিকিৎসা পরিষেবার মান নিয়েও আলোচনা করেন। কোথাও কোনও ঘাটতি থাকলে দ্রুত তা পূরণের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের যাতে কোনও রকম হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।
সরকারি হাসপাতালগুলিতে দালালচক্রের অভিযোগ নতুন নয়। বহু ক্ষেত্রে রোগী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই পরিচয়-ব্যান্ড ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, হাসপাতাল চিকিৎসার জায়গা, কোনওভাবেই অসাধু চক্রের কাজ করার জায়গা নয়। তাই হাসপাতালের ভিতরে যাঁরা বৈধ কারণে রয়েছেন, তাঁদের স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি বাড়াতে হবে। রোগীদের অভিযোগ দ্রুত শুনে সমাধান করতে হবে। কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
প্রশাসনের একাংশের মতে, এই নির্দেশ কার্যকর হলে সরকারি হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যও অনেকটাই কমানো সম্ভব হতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের পর বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রশাসন নির্দেশগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী দিনে অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।