RSS membership West Bengal
ক্লাউড টিভি ডেস্ক : বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার নতুন চর্চার কেন্দ্রে আরএসএস। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং তার বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনে সদস্য হওয়ার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট বলে সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন।
সংবাদ প্রতিদিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (ABRSM) সদস্য সংগ্রহে বিশেষ জোর দিচ্ছে। সংগঠনের দাবি, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বেড়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ।
সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে বহু শিক্ষক ও অধ্যাপক এখন তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে এই আগ্রহের পিছনে শুধুমাত্র মতাদর্শগত সমর্থন রয়েছে, নাকি ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করছে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
আরএসএস ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলির মতে, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা বাম বা তৃণমূলপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন নতুন করে সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে সদস্যপদ দেওয়ার আগে কড়া যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অতীতে সক্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিজেপির নির্বাচনী সাফল্যের পিছনে আরএসএসের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপির বিজয়ের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্র সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনগুলিতে আরএসএসের প্রভাব বাড়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।
তবে সমালোচকদের বক্তব্য, ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই রাজনৈতিক সুবিধার আশায় নতুন শিবিরে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই মতাদর্শগত বিস্তার— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনই সম্ভব নয়। অন্যদিকে আরএসএসের দাবি, এটি বাংলার সমাজে তাদের দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি।
আগামী দিনে এই সদস্য বৃদ্ধির প্রবণতা কতটা স্থায়ী হয় এবং তা বাংলার শিক্ষা ও সামাজিক পরিসরে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।