Titan Natural Gas Reserves
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পৃথিবীর বাইরে ভবিষ্যতে মানব বসতি গড়ার সম্ভাব্য স্থানগুলির তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে শনির বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটান। NASA-সমর্থিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, টাইটানে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস, হাইড্রোকার্বন এবং জল-বরফের ভাণ্ডার (Titan Natural Gas Reserves) রয়েছে। গবেষকদের মতে, এই সম্পদের পরিমাণ এতটাই বিশাল যে টাইটানকে ‘মহাকাশের পারস্য উপসাগর’ বলেও অভিহিত করা হচ্ছে।
গবেষণার নেতৃত্ব দেন NASA গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গ্রহবিজ্ঞানী কনর নিক্সন। দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষ করে Cassini-Huygens মিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা টাইটানের সম্পদ সম্ভাবনা মূল্যায়ন করেছেন। তাদের মতে, টাইটানের পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে মিথেন এবং অন্যান্য হাইড্রোকার্বন রয়েছে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
টাইটান সৌরজগতের একমাত্র উপগ্রহ, যার ঘন বায়ুমণ্ডল রয়েছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, পৃথিবীর বাইরে এটিই একমাত্র জগৎ যেখানে নদী, হ্রদ এবং সমুদ্রের মতো তরল পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে সেখানে জল নয়, প্রবাহিত হয় তরল মিথেন ও ইথেন।
NASA-এর তথ্য অনুযায়ী, টাইটানের বায়ুমণ্ডল মূলত নাইট্রোজেন এবং মিথেন দিয়ে গঠিত। এছাড়া এর ভূত্বকে বিপুল পরিমাণ জল-বরফ রয়েছে। এই জল থেকে অক্সিজেন উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে, যা ভবিষ্যতের মানব অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-র আগের গবেষণায়ও দাবি করা হয়েছিল, টাইটানে পৃথিবীর পরিচিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদের তুলনায় শত শত গুণ বেশি হাইড্রোকার্বন থাকতে পারে। সেই কারণেই বহু বিজ্ঞানী টাইটানকে ভবিষ্যতের মহাকাশ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন।
তবে সবকিছুর পরেও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। টাইটানের তাপমাত্রা মাইনাস ১৭৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এমন চরম ঠান্ডা পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে।
এই রহস্যময় উপগ্রহ সম্পর্কে আরও তথ্য (Titan Natural Gas Reserves) সংগ্রহের জন্য NASA-এর বহুল প্রতীক্ষিত Dragonfly মিশন আগামী দশকে টাইটানে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই মিশন টাইটানের প্রকৃত সম্পদ, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ মানব অভিযানের সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দেবে।