High-Energy X-Ray Detector
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মহাবিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও চরম পরিবেশের মহাজাগতিক বস্তুগুলি নিয়ে গবেষণায় বড় সাফল্য পেলেন বিজ্ঞানীরা। ভারতের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি (PRL) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি উচ্চ-শক্তির এক্স-রে ডিটেক্টর। নতুন এই প্রযুক্তি ব্ল্যাক হোল, নিউট্রন তারা, পালসার এবং অন্যান্য শক্তিশালী মহাজাগতিক বস্তুর রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
গবেষকদের মতে, মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির এক্স-রে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এই বিকিরণ খুবই দুর্বল এবং অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড সিগন্যালের মধ্যে হারিয়ে যায়। এই সমস্যার সমাধান করতেই তৈরি করা হয়েছে নতুন প্রজন্মের এই ডিটেক্টর।
ডিটেক্টরটি একটি ‘ওয়ান-ডাইমেনশনাল পজিশন-সেনসিটিভ ডিটেক্টর’, যা বিশেষভাবে কম্পটন এক্স-রে পোলারিমিটারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি এক্স-রের পোলারাইজেশন বা তরঙ্গের দিক নির্ণয় করতে সক্ষম। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক হোলের চারপাশের চৌম্বক ক্ষেত্র, গঠন এবং সেখানে চলা ভৌত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
নতুন ডিটেক্টরে সোডিয়াম আয়োডাইড ক্রিস্টাল এবং ডুয়াল-এন্ডেড সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এই নকশা ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয় এবং এক্স-রে সিগন্যালের নির্ভুলতা বাড়ায়। ফলে মহাকাশ থেকে আসা বিরল এক্স-রে বিকিরণ আরও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি ক্রিস্টালের কোন স্থানে এক্স-রে আঘাত করছে তা নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। এর ফলে ডিটেক্টরের সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা বিকিরণ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
উচ্চ-শক্তির এক্স-রে জ্যোতির্বিজ্ঞান মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্ল্যাক হোলের অ্যাক্রিশন ডিস্ক, নিউট্রন তারার সংঘর্ষ, সুপারনোভা বিস্ফোরণ এবং মহাজাগতিক জেটের মতো ঘটনাগুলি বিশ্লেষণে এই প্রযুক্তি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনে এই ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের চরম পরিবেশে পদার্থের আচরণ সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় ভারতের অবদানও আরও শক্তিশালী হবে।