Massive Gas Reservoir in Early Galaxy
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মহাবিশ্বের উৎপত্তির মাত্র ৩০ কোটি বছর পর গঠিত একটি প্রাচীন গ্যালাক্সিতে বিশাল পরিমাণ হাইড্রোজেন গ্যাসের ভাণ্ডার আবিষ্কার করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) এবং অ্যাটাকামা লার্জ মিলিমিটার/সাবমিলিমিটার অ্যারে (ALMA)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের (Massive Gas Reservoir in Early Galaxy) কথা জানানো হয়েছে।
গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে JADES-GS-z14-0 নামের একটি গ্যালাক্সি, যা বর্তমানে পর্যবেক্ষণ করা সবচেয়ে দূরবর্তী এবং প্রাচীন গ্যালাক্সিগুলোর অন্যতম। বিজ্ঞানীদের মতে, এই গ্যালাক্সিতে প্রায় ৬ থেকে ১০ বিলিয়ন সূর্যের সমপরিমাণ নিরপেক্ষ হাইড্রোজেন গ্যাস মজুত রয়েছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, গ্যালাক্সিটির মোট দৃশ্যমান পদার্থের ৯০ শতাংশেরও বেশি এখনও গ্যাস আকারে রয়েছে।
হাইড্রোজেন গ্যাসই নতুন নক্ষত্র তৈরির প্রধান কাঁচামাল। ফলে এত বিশাল গ্যাস ভাণ্ডারের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে গ্যালাক্সিটি ভবিষ্যতে আরও দ্রুতগতিতে নক্ষত্র তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে। গবেষকদের মতে, এটি প্রাথমিক মহাবিশ্বে গ্যালাক্সি গঠনের প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে।
এর আগে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, মহাবিশ্বের এত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা উজ্জ্বল গ্যালাক্সিগুলো হয় তুলনামূলকভাবে ছোট হবে অথবা তাদের অধিকাংশ গ্যাস (Massive Gas Reservoir in Early Galaxy) ইতোমধ্যে নক্ষত্রে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। কিন্তু JADES-GS-z14-0 সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। কারণ গ্যালাক্সিটি একদিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল, অন্যদিকে এতে অক্সিজেনসহ ভারী মৌলের উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী নক্ষত্র গঠনের প্রমাণ বহন করে। তবুও এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা গ্যালাক্সিটির বর্ণালী বিশ্লেষণ করে শক্তিশালী “ড্যাম্পড লাইম্যান-আলফা” শোষণ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেন। এই সংকেত থেকে তারা বিপুল পরিমাণ নিরপেক্ষ হাইড্রোজেনের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার বিগ ব্যাং তত্ত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। বরং এটি প্রাথমিক মহাবিশ্বে গ্যালাক্সি গঠন ও বিকাশের বিদ্যমান মডেলগুলোর উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলো ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মহাবিশ্বের প্রথম দিকের গ্যালাক্সিগুলো বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক দ্রুত বিকশিত হয়েছিল।
নতুন এই গবেষণা মহাবিশ্বের শৈশবকাল সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা প্রদান করবে বলে আশা করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।