NCPI TMC Political Party
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় হিসেবে উঠে এসেছে একটি প্রায় অজানা রাজনৈতিক দলের নাম— ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)। রবিবার দিল্লিতে বৈঠকের পর বিদ্রোহী সাংসদদের একাংশ এই দলে (NCPI TMC Political Party) যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দিল্লিতে বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে বিদ্রোহী সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী জানান, পশ্চিমবঙ্গে ফিরে তাঁরা দলের সাংগঠনিক কাজ শুরু করবেন এবং পার্টি অফিসও খোলা হবে। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে— ঠিক কোন দলে যোগ দিলেন তাঁরা?
নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া একটি নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল (Registered Unrecognised Political Party বা RUPP)। কমিশনের তালিকায় দলটির সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে NCPN উল্লেখ রয়েছে। ২০২৩ সালে দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত হয়।
সূত্রের খবর, এই দলের নিবন্ধিত ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায়। যদিও বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত ত্রিপুরাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এনসিপিআই দুটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। কৈলাসহর এবং চউমানু কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনও আসনে জয় পায়নি দলটি। কৈলাসহরে দলের প্রার্থী জাহাঙ্গির আলি পেয়েছিলেন ২৮৬ ভোট এবং চউমানু কেন্দ্রে বড়জেদা ত্রিপুরা পেয়েছিলেন ৫৩৬ ভোট। দলের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘কলমের নিব ও সাতটি রশ্মি’।
তবে রাজনৈতিক মহলে বিস্ময়ের কারণ অন্য জায়গায়। ত্রিপুরার শাসক বিজেপি, বিরোধী সিপিএম কিংবা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এই দলের সক্রিয় অস্তিত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তিনি নামটি শুনেছেন ঠিকই, কিন্তু ত্রিপুরার রাজনীতিতে দলটির সক্রিয় উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত নন। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি নেতা আশিসলাল সিংহ। অন্যদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক ও বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীও জানিয়েছেন, এই নামে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ তাঁর জানা নেই।
ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলটির আইনি অস্তিত্ব থাকলেও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যকলাপ প্রায় অদৃশ্য। ফলে হঠাৎ করেই জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসা এই দলকে ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা দলত্যাগ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রাখতে একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে বেছে নিয়েছেন। সেই কারণেই এনসিপিআই এখন তাঁদের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
তবে এই নতুন সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা আদৌ ২০-এ পৌঁছয় কি না এবং জাতীয় রাজনীতিতে এনসিপিআই কতটা প্রভাব ফেলতে পারে— সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।