BJP TMC Relation
শান্তনু কর্মকার: এমন দৃশ্য হয়ত আজ থেকে মাত্র দু’মাস আগে স্বপ্নেও কল্পনা করেননি কেউ। নয়াদিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা ভুপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকে বৈঠকে বসলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, দীপক অধিকারী সহ অন্যান্য তৃণমূল সাংসদরা। আলোচনা শেষে হেডলাইন হল, “ভূপেন্দ্রর বাড়িতে দেবের গাল টিপে দিলেন শুভেন্দু”। সেদিনই আবার জানা গেল, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন তৃণমূল সাংসদ সমর্থন করবেন NDA জোটকে। অর্থাৎ, সবমিলিয়ে দেখতে গেলে বাদ রইলেন কেবলমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকিদের জন্য বিজেপির দ্বার (BJP TMC Relation) অবারিত, তাঁরা এলেন-বৈঠক করলেন, সমর্থন করলেন।
বিজেপি নেতার বাড়িতে এহেন বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে কর্মীদের মধ্যে। যাঁরা দলের দুঃসময়ে গেরুয়া পটাকা আগলে রেখেছেন, তাঁদেরই একটা বড় অংশ মনে করছেন, এহেন বৈঠক আদতে তাঁদের আবেগ-আদর্শকে নিয়ে ছেলেখেলা। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর একাধিকবার বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছেন, বিজেপির তৃণমূলীকরণ হতে দেবেন না তাঁরা। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও একাধিকবার বলেছেন, তৃণমূল কর্মীদের জন্য বিজেপির দরজা আপাতত বন্ধ! সেই বন্ধ দুয়ার ভেদ করে কাকলি-শতাব্দী রায়ের মতো নেতানেত্রীরা কীভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন, তা রীতিমতো ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকেও।
আদর্শগতভাবে বরাবরই দলবদল তথা ঘোড়া কেনাবেচার বিরোধিতা করে এসেছে বিজেপি। ১৯৯৯ সালে তামিলনাড়ুর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার এআইএডিএমকে (AIADMK) সমর্থন প্রত্যাহার করায় মাত্র একটি ভোটের ব্যবধানে পড়ে যায় অটল বিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। এনডিএ বিরোধীরা অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরও অটল বিহারি বাজপেয়ী ঘোড়া কেনাবেচার পথে না হেঁটে সরাসরি পদত্যাগ করেছিলেন। এই ঘটনা অমর হয়ে রয়েছে ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে, একাধিকবার গর্ব সহকারে এই ঘটনা স্মরণও করেন রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতারা। সেই একই দল আজ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসায় এবং সমর্থন আদায় করে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের আদি কর্মী-সমর্থকরাও।
বিজেপির একাংশ অবশ্য এখনও দাবি করছে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদের দলে নেওয়া হয়নি, সংসদে তাঁদের সমর্থন একাধিক বিল পাশ করাতে কাজে লাগবে এনডিএ জোটের। তবে অতীতে আগেও বিজেপির সুসময়ে দলের রাশ চলে গিয়েছিল তৃণমূল থেকে আসা দুর্নীতিবাজ নেতাদের হাতেই। ২০১৯ সালে রাজ্যে ১৮টি আসন জেতার পর প্রচুর নেতা তৃণমূল থেকে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। সেই স্মৃতিই যেন ফের একবার তাড়া করে বেড়াচ্ছে সাধারণ কর্মীদের।